বর্তমান সরকার যেখানে চাঁদাবাজির ব্যাপারে জিরো ট্রলারেন্স, সেখানে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পাটুরিয়া ঘাটে পরিবহণ থেকে চাঁদাবাজির ব্যাপক পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।পরিবহণ পরিচালনার জন্য মাত্র ২টি কমিটি রয়েছে। ইতিমধ্যে মাত্র ৯দিনের ব্যবধানে মালিক-শ্রমিক সমিতি’র নামে আরো ৩টি কমিটি’র অনুমোদন দিয়েছে জেলা কমিটি।পাটুরিয়া ঘাটে পরিবহণ থেকে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে রাতারাতি এসব সংগঠণ গড়ে উঠছে বলে বাস-মলিক শ্রমিকরা জানিয়েছেন।পাশাপাশি ঘাটের কর্তৃত্ব নিতেও মরিয়া হয়ে উঠেছে এসব সংগঠণের নেতারা।এ নিয়ে চলছে চরম উত্তেজনা,যে কোন সময় অপৃতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।এর প্রতিকার চেয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা বাস, কোচ, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি এবং মানিকগঞ্জ জেলা বাস, কোচ, মিনিবাস, ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ খৃষ্টাব্দের পর থেকে পাটুরিয়া ঘাটে পরিবহণ থেকে মোটা অংকের চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ায় মালিক-শ্রমিকদের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তির নি:শ্বাস।কিন্তু গত ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাচনের পর যেভাবে আবার চাঁদাবাজির পায়তারা শুরু হয়েছে এ স্বস্তির নি:শ্বাস কয়দিন থাকে এটাই এখন মালিক-শ্রমিকদের চিন্তার বিষয়।কিন্তু তর সইছে না চাঁদাবাজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের।মালিক-শ্রমিক না হয়েও এরা এখন মালিক-শ্রমিকের নামে কমিটি এনে চাঁদাবাজির পায়তার করছে।
ঢাকা-আরিচা-পাটুরিয়া মহাসড়কে চলাচলকারী সকল পরিবহণ পরিচালনার জন্য মানিকগঞ্জ জেলা বাস, কোচ, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি যার (রেজি:নং ৫৪৯৭) এবং মানিকগঞ্জ জেলা বাস, কোচ, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন যার (রেজি নং: ৬১৮০) শিবালয় উপজেলার শাখার দু’টি কমিটি রয়েছে। যাহা শ্রম দপ্তর কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত সংগঠণ ও ট্রেড ইউনিয়ন।একমাত্র শ্রম মন্ত্রণালয় উক্ত মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন প্রদান করে থাকেন বলে বাস-মালিক শ্রমিকরা জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের ২টি কমিটি থাকা সত্ত্বেও মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে আরো ৩’টি কমিটি’র আত্মাপ্রকাশ ঘটেছে শিবালয়ে।এর মধ্যে গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ খৃষ্টাব্দে মানিকগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস মালিক সমিতি যার (রেজি:নং-৪৬৪৪) এর সভাপতি মো.আব্দুর রাজ্জাক লিটন, সাধারণ সম্পাদক পীর বাবুল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৫ সদস্য বিশিষ্ট শিবালয় উপজেলা শাখার আরেকটি মালিক সমিতি কমিটি’র অনুমোদন দেয়া হয়।
একই তারিখে উক্ত জেলা কমিট’র সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত মানিকগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, আটো, টেম্পু অর্নাস গ্রুপ (রেজি: নং-TO-778/11) নামে শিবালয় উপজেলা শাখা কমিটি’র অনুমোদন দেন।এ দু’টি সংগঠণের নেতারা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতা নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে সেলফি পরিবহণসহ বিভিন্ন বাস থেকে চাঁদা তোলার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এছাড়া মহাসড়কে অটো, টেম্পোসহ যে কোন থ্রি-হুইলার চলাচলে সম্পূর্ণভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ঠিক এর ৯দিন পর মানিকগঞ্জ জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, মানিকগঞ্জ যার (রেজি:নং-৪৫৬২,) এই কমিটি’র প্যাডে গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ খৃষ্টাব্দে শিবালয় উপজেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, সিএনজি পরিচালনা শ্রমিক ইউনিয়ন শাখা কমিটি নামের ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটি’র অনুমোদন দিয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রাজা মিয়া। ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি’র একজনেরও নেই কোন শ্রমিকের পরিচয় পত্র।অথচ এরা শ্রমিক সংগঠনের সদস্য।
এছাড়া যেখানে হাইওয়েতে সিএনজি চালাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেখানে পরিচালনা কমিটি দেয়া হয় কিভাবে?এ কমিটি’র নেতাকর্মীরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পাটুরিয়া ঘাটের পরিবহণ থেকে চাঁদাবাজিসহ কর্তৃত্ত নিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।এ নিয়ে পাটুরিয়া ঘাট এলাকাতে একটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।যে কোন সময় ঘটতে পারে অপৃতিকর ঘঠনা।
বর্তমান সরকারের ভাবমু্র্তি ক্ষুন্ন করার জন্য কিছু একটি কুচক্রীমহল পরিবহণ থেকে অবৈধভাবেব চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে।
বাস মালিক-শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-আরিচা-পাটুরিয়া মহাসড়কে গড়ে প্রতিদিন সেলফি প্রায় সাড়ে ৩শ’টি নীলাচল ১শ’ ২০টি পদ্মা লাইনের ৩০টি এবং যাত্রীসেবা পরিবহনের ২০টি বাস চলাচল করে থাকে।
বর্তমানে সেলফি পরিবহনের বাস থেকে জিপির নামে প্রতিদিন ৩শ’ টাকা করে, নীলাচল বাস থেকে ২শ’ টাকা করে, পদ্মালাইন থেকে ১শ’ টাকা করে যাত্রীসেবা পরিবহণ থেকে ২শ’ টাকা করে চাঁদা তুলছেন ঘাট সংশ্লিষ্ট বাসের সুপারভাইজাররা। ঈদ পার্বনে এসব চাঁদার পরিমাণ আরো বেড়ে যায়।
চাঁদা না দিলে সিরিয়াল দেয়া বন্ধসহ নানাবিধ ঝক্কি-ঝামেলায় পড়তে হয় তাদেরকে।এ নিয়ে বাস মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সেলফি পরিবহণের একাধিক মালিক-শ্রমিক জানান, পাটুরিয়া ঘাটে ৩০০ টাকা করে চাঁদা না দিলে গাড়ির সিরিয়াল দেওয়া হয় না। ফলে রাস্তায় যাত্রী নিয়ে গাড়ি নামাতে চাঁদা দিতে হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না বলেও জানান তারা। ঈদের সময় সেলফি পরিবহনের চাঁদা বেড়ে বাস প্রতি ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা পযর্ন্ত হয়।
নীলাচল বাসের মালিকরা জানান, বর্তমানে নীলাচলের পরিচালনার দায়ীত্বে রয়েছে সুজন ও সাইফুল নামের দু’জন।এরা প্রতিদিন প্রতিটি বাস থেকে জিপির নামে ২শ’ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে।টাকা দিতে অস্বীকার করলেই গাড়ির সিরিয়াল দেয়া হয়না।
বাস মালিকরা জানান, এমনিতেই তেল সংকটের কারণে মাঝে মধ্যেই বাস চলাচল বন্ধ থাকছে। আবার তেলের দাম বাড়নো হলো।সবমিলেয়ে পরিবহণ ব্যবসা খুবই খারাপ অবস্থা। এরপর যদি এভাবে চাঁদা দিতে হয় তাহলেতো আমাদের পরিবহণ ব্যবসা বাদ দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নাই।
মানিকগঞ্জ জেলা বাস, কোচ, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতি যার (রেজি:নং ৫৪৯৭) এর নের্তৃবৃন্দরা জানান, একমাত্র আমাদের কমিটিই সঠিক।আর যে সকল কমিটি সেগুলো ঠিক নাই।এসকল কমিটি’র কোন বৈধতা নেই।কারণ উক্ত সংগঠণের রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।এরা শুধু ব্যবসা সংক্রান্ত কাজের জন্য রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করে থাকেন।যে কোন প্রকার চাঁদা আদায় সম্পূর্ণভাবে নিষেধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।যা ওই অনার্স গ্রুপের গঠণতন্ত্র দেখলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে-এ সংগঠণ কি করতে পারবে, আর কি করতে পারবেনা।
এসব বিষয়ে শিবালয় হাইওয়ে থানার ওসি মোঃ হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন,পাটুরিয়া পরিবহনগুলো যাতে বেশী ভাড়া না নিতে পারে আমরা সেদিকে লক্ষ রাখছি।চাঁদাবাজীর বিষয়ে পরিবহনগুলোর নিজস্ব সমিতি আছে তারা ভালো বলতে পারবে।
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বিপিএম সাংবাদিকদের বলেন, ঘাটে কেও কোন রকম চাদাবাজী করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আমাদেরকে তথ্য প্রমানসহ কেউ জানালে আমরা ব্যাবস্থা নিবো।
পাটুরিয়া ঘাটে পরিবহণে চাঁদাবাজির পায়তারা
🕙 প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ২:০৬ অপরাহ্ণ

