শনিবার

১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

🕙 প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬ । ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্তা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছুটিতে ঢাকায় থাকা খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলাম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনা চোরাচালানের তথ্য পান বলে দাবি করেন। পরে তিনি এসআই শফিকুল ইসলামকে বিষয়টি জানান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে লালখান বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

নাঈম হাসান জানান, শুক্রবার রাতে ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে তিনি চট্টগ্রামে ফেরেন। রাত ১০টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশাটি থামান।

নাঈমের অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর চালকের কাগজপত্র নেওয়া হয় এবং তাকে জোর করে নামিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে তার কোমরে আঘাত করেন। এছাড়া সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাঈম বলেন, “ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে আমার পরিচয় নিশ্চিত করলেও তারা মারধর থামায়নি। আমাকে আসামি বলে চুপ থাকতে বলা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে আরেকটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে খুলশী থানায় নেওয়া হলে ওসির কক্ষেও তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়।

নাঈম জানান, থানায় গিয়ে ফোন ফিরে পাওয়ার পর তিনি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে বিষয়টি জানান। পরে বিসিবির পরিচালকরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে নাঈম বলেন, “আজ আমার সঙ্গে হয়েছে বলে অনেকে পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন হলে অনেক সময় কেউ এগিয়ে আসে না। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।”

খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলেন, “অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে কিছু জানাননি। থানায় আনার পর আমরা জানতে পারি তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার। পরে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।”

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে অংশ নেওয়া আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, “অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে তথ্যের সত্যতা ও অভিযান পরিচালনায় নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশের অভিযান পরিচালনার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এখানে কিছু ভুলত্রুটি দেখা যাচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ