শনিবার

১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাগরপথে গ্রিস যেতে গিয়ে ট্র্যাজেডি—খাবার-পানির সংকটে ১৮ অভিবাসীর মৃত্যু, সুনামগঞ্জের ১০ জন শনাক্ত

🕙 প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৬ । ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় তীব্র খাবার ও পানির সংকটে ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়।

শনিবার রাতে গ্রিসের একটি শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, গত ৬ মার্চ তিনি একইভাবে গ্রিসে পৌঁছান এবং বর্তমানে ওই ক্যাম্পেই অবস্থান করছেন, যেখানে ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে তিনি জানান, দালালের মাধ্যমে রাবারের বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। তবে মাঝপথে বোটটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে।

দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়। পরে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার নিহত চারজন হলেন—নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮)। দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার বাসিন্দাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। স্বজনরা জানান, দালালের সঙ্গে প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা দেন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর রোববার বিকেলে গ্রিসে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর পান তারা।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বর্তমানে ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ে পুলিশ কাজ করছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ