যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে দুই মাস কাটানোর পর ‘অমানবিক’ পরিস্থিতির অভিযোগ তুলে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন ২৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়তু চৌধুরী।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ৩ ডিসেম্বর আইসিই এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তারের পর জয়তুকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের একাধিক ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। সেখানে অবস্থানের অভিজ্ঞতা তার মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
জয়তু জানান, বন্দিশিবিরের পরিবেশ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি তিনি হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
২০২১ সালে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ফিন্যান্স ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়তে যুক্তরাষ্ট্রে যান জয়তু। তবে ২০২৫ সালের আগস্টে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সংক্রান্ত জটিলতায় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো (ডিইউআই) ও খুচরা চুরির মতো কিছু অভিযোগও ছিল, যেগুলোর জন্য তিনি অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।
আইসিই হেফাজতে থাকার সময় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সুবিধার অভাব ছিল বলে অভিযোগ করেন জয়তু। তার ভাষায়, “এই ব্যবস্থা মানুষকে এমনভাবে ক্লান্ত করে ফেলে, যাতে তারা লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে যথাযথ চিকিৎসা ও সুবিধা রয়েছে।
জয়তুর স্ত্রী অ্যাশলে ইয়ামিলত একজন মার্কিন নাগরিক। শুরুতে স্ত্রীর কাছে ফিরে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার ইচ্ছা থাকলেও বন্দিশিবিরের অভিজ্ঞতা তাকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতিমালায় ‘সেলফ-ডিপোর্টেশন’ বা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জয়তুর ফেরার টিকিট নিয়েও আইসিইর সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়, যদিও সংস্থাটি দাবি করেছে তার জন্য বিকল্প টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

