প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারাও দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে মন্তব্য করেছেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি)-মানিকগঞ্জে ‘জাগরণ’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত সনদপত্র প্রদান ও আয়বর্ধক কাজে মূলধন সহায়তা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তারা কারও ওপর নির্ভরশীল না থেকে আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন এবং জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভি ফেরদৌস এবং সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন।
সিআরপির অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ডা. ভ্যালেরি অ্যান টেলর।
সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিআরপির পুনর্বাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ইলেকট্রনিকস ও মোবাইল ফোন সার্ভিসিং এবং ড্রেসমেকিং অ্যান্ড টেইলারিং ট্রেডে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৪৪ জন প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড শুরু করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে সিড মানি প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, পুনর্বাসন এবং আর্থিক সহায়তার সমন্বিত উদ্যোগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের স্বনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে সিআরপির কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সিআরপি-মানিকগঞ্জে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

