শনিবার

১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম-ডেঙ্গুর যুগপৎ সংকট: জনস্বাস্থ্যে নতুন শঙ্কা

🕙 প্রকাশিত : ৩ জুন, ২০২৬ । ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

দেশে একের পর এক সংক্রামক রোগের বিস্তার এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামের প্রকোপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর সংক্রমণ নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। একদিকে শিশু ও সাধারণ মানুষ হামে আক্রান্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এক কঠিন পরীক্ষা।

সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর ইতোমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্ষা শুরু হলে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। হামের মতো সংক্রামক রোগের সঙ্গে ডেঙ্গুর বিস্তার যুক্ত হলে তা জনজীবনে “মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা” হয়ে দেখা দিতে পারে।

তবে আশার কথা হলো, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ ডেঙ্গু কর্নার চালুর সিদ্ধান্ত, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজনে জেলা পর্যায়ে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, স্যালাইন ও চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত বৃদ্ধি এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে মশা নিধন কার্যক্রমও প্রশংসার দাবি রাখে।

কিন্তু শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। ডেঙ্গুর প্রকৃতি ও ভয়াবহতা বিবেচনায় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কারণ এডিস মশা মূলত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে জন্ম নেয়। বাসাবাড়ির ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা সামান্য পানিও মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। তাই নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এখন নাগরিক দায়িত্ব।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে। উচ্চ জ্বর, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু লোকদেখানো ওষুধ ছিটানো নয়, বৈজ্ঞানিকভাবে লার্ভিসাইড প্রয়োগ, নিয়মিত ড্রেন ও জলাশয় পরিষ্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত কিট ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে রোগীদের রাজধানীমুখী হতে না হয়।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে সঠিক তথ্য ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।

সবশেষে বলতে হয়, হাম ও ডেঙ্গুর মতো যুগপৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলেই বড় ধরনের স্বাস্থ্যবিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ