তিন মাস আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারধরের শিকার হন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের পরিবার। এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসলে পুনরায় মারধরের শিকার হন ষাট ঊর্ধ নাসির উদ্দিন। হাসপাতাল এলাকা থেকে পুলিশ অভিযুক্ত দুজন সহ নাসির উদ্দিনকে থানা হেফাজতে আনেন। ঐদিন মাঝরাতে থানা থেকে ছাড়া পান অভিযুক্তরা। কিন্তু বিরোধী পক্ষের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় হামলার শিকার নাসির উদ্দিনকেই।
ওই মামলায় ১৬ দিন কারাবাস থাকার পর জামিনে বের হন নাসির উদ্দিন। এরমধ্যে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা হামলার ভয়ে বাড়িতে উঠতে পারেননি; ছিলেন দুর্বিত্তায়নের ভয়ে আত্মগোপনে।
প্রায় তিন মাস পর বুধবার (২০ মে) বিকেলে সপরিবারে নিজ বাড়িতে যান পরিবারের সদস্যরা। এরই মাঝেই খবর পেয়ে বিকেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় ফারুক গং।
নৃশংস এই হামলায় গুরুতর যখন হন নাসির উদ্দিন (৬৫), রওশন আরা বেগম (৫০),মেহেদী হাসান (৩০), মুকুল হাসান (২৫), নাসরিন আক্তার (৩২), তিশা আক্তার (১৮)।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্যমতে এই হামলা ঘটিয়েছেন- ফারুক হোসেন দেওয়ান (৪৫), শফি, নজরুল, আরিফ, এনায়েত (সাবেক ইউপি সদস্য) রাজিব হোসেন (সাদ্দাম)সহ আরো ২০-২৫ জন।
আহতদের উদ্ধার করে এলাকাবাসী সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠালে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নাসির উদ্দিন এবং দুই ছেলে মেহেদী হাসান ও মুকুল হাসান’কে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠান।সেখানে মেহেদী হাসান হাতের দুটি রগ কেটে যাওয়ায় সিসিওতে ভর্তি আছেন বলে জানা যায়।
আহত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তারের অভিযোগ, তিন মাস আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় পুলিশ কোন মামলা নেয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করতে হয়েছে। আদালত মামলাটি পুলিশকে তদন্ত করতে দিলে সে মামলার কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের মামলায় জেল খেটেছেন তার বাবা নাসির উদ্দিন।পুলিশের অবহেলার কারণেই আজকের এই হামলা ঘটেছে বলে তার অভিমত।
পুলিশের অসহযোগিতা এবং দুর্বিত্তায়নের ভয়ে যখন থেকে এই পরিবার বাড়ি ছাড়া তখন এ ঘটনা সমাধানের জন্য জেলার প্রভাবশালী দলের নেতৃবৃন্দদের ধরনাও ধরেছেন বলে অভিযোগ এই ভুক্তভোগী পরিবারের।

