একসময় যে ভিটেবাড়িতে কেটেছে জীবনের দীর্ঘ সময়, আজ সেই বাড়ি হারিয়ে ছোট্ট একটি দোকানঘরে মানবেতর জীবন কাটছে বৃদ্ধা জরিনা বেগম (৭৫) ও তার মেয়ে রত্না আক্তার রুমার। চোখে অশ্রু, মুখে আতঙ্ক আর বুকভরা অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা স্মৃতি আর উচ্ছেদের বেদনা আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন এই বৃদ্ধা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী প্রবাসী মিলনের পক্ষ থেকে তাদের বসতঘর ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জরিনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন,“এই ভিটাতেই আমার জন্ম, এইখানেই সংসার করছি। এখন শেষ বয়সে আমাকে ঘরছাড়া করা হলো। কোথায় যাব, কার কাছে দাঁড়াব?”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আঠালিয়া মৌজার তিনটি দাগের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিভিন্ন সময় দখলের চেষ্টা হলেও স্থানীয়দের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে জরিনা বেগমের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃদ্ধার মেয়ে রত্না আক্তার রুমা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল নতুন জায়গায় ঘর করে দেওয়া হবে। সেই আশায় আমরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি । কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। আমরা মা-মেয়ে একটি ছোট দোকানঘরে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন,
“মা সারারাত ঘুমাতে পারেন না। সবসময় ভয় পান—আমরা কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব?”
অভিযুক্ত প্রবাসী মিলন দাবি করেন, জরিনা বেগমের ওই জায়গায় বৈধ মালিকানা নেই। মানবিক কারণে পাশেই জমি কিনে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে।

