বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ। এ লক্ষ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং-এর সঙ্গে আজ সন্ধ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। যাত্রী ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। অতিথি হিসেবে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির।
বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। এছাড়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, বিমান মোট ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট। সংশ্লিষ্টরা জানান, বহর আধুনিকায়ন, দূরপাল্লার সক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট কার্যক্রম জোরদার করাই এই ক্রয়ের মূল লক্ষ্য।
ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দীর্ঘপাল্লার রুটে সেবার মান উন্নত করবে। অন্যদিকে, ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো স্বল্প ও মধ্যপাল্লার আঞ্চলিক রুটে ব্যবহৃত হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রাক্কালে এই চুক্তিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, বিমানের বহর অর্ডার নিয়ে বোয়িং ও ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতারও অবসান ঘটতে যাচ্ছে এই চুক্তির মাধ্যমে। ২০২৩ সালে এয়ারবাসের প্রস্তাব আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত সমন্বিত প্রস্তাব ও ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে বোয়িংই চুক্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

