বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার এক দম্পতিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক অভিযুক্তদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অভিযুক্তরা হলেন- হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের ষট্টি গ্রামের সালাম মুল্লার ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, অভিযুক্ত জহিরুল ও মনোয়ারা তাদের প্রতিবেশী বাদল বিশ্বাস ও মো. দেলোয়ার হোসেনকে উচ্চ বেতনে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখান। তাদের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময়ে নগদ মোট ৩২ লাখ টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।
ভুক্তভোগী অলিদ বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরল বিশ্বাসে আমি, আমার বাবা ও চাচা দেলোয়ার জমিজমা বিক্রি করে ৩২ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছে। আমরা সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন নিঃস্ব।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয়। পরে পাসপোর্ট ও টাকা ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। উল্টো টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মামলা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়।
এ অবস্থায় উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পরে সোমবার অভিযুক্তরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা যেন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পান এবং এ ধরনের প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এমন প্রতারণার শিকার না হয়।

