মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং রোগের বিস্তার রোধে রোববার (১৪ জুন) সকাল ৯টা থেকে আক্রান্ত এলাকার চারপাশের দুই কিলোমিটার জুড়ে গবাদিপশুকে জরুরি ভ্যাক্সিনেশন’ (জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকাদান) দেওয়া শুরু করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসী এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, জলাতঙ্ক রোগ যেন কোনোভাবেই ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেই লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।আজকের মধ্যেই এই ঠিকাদানের কাজ শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের বড়পয়লা গ্রামের রমজান বেপারী নামের এক ব্যক্তির একটি গরু জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়। গত রোববার (৭ জুন) বিকেলে সাটুরিয়া উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. খোকন হোসেন গরুটি পরিদর্শন করে জলাতঙ্ক রোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. খোকন হোসেন”গরুটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত জানার পর আমরা রোববার (৭ জুন) বিকেলেই গরুর মালিককে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। কোনো অবস্থাতেই যেন এই গরুর মাংস বিক্রি বা খাওয়া না হয়, সে ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।”কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা করে পরদিন সোমবার (৮ জুন) সকালে রমজান বেপারী গরুটি জবাই করেন। পরে অত্যন্ত কম মূল্যে, অর্থাৎ প্রতি কেজি মাত্র ৩০০ টাকা দরে সেই বিষাক্ত মাংস স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে দেন। কম দামে পেয়ে না বুঝেই স্থানীয় অনেকেই এই মাংস কিনে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসী জানান, অসুস্থ গরুটির স্যাম্পল কালেকশন করে টেস্ট করলে নিশ্চিত হওয়ার যেত ওই গরুটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়েছিল কিনা? গরুটির মালিক আমাদের নির্দেশ অমান্য করে গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করায় স্যাম্পল কালেকশন করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক ধারণা করে আমরা টিকাদান ও সচেতনামূলক কর্মসূচি পালন করছি বলে জানান তিনি।
এই ঘটনার পর থেকে বড়পয়লা ও আশেপাশের গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। যারা মাংস কিনেছেন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িত ছিলেন, তারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, রিং ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকার আশেপাশের সুস্থ পশুগুলোকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইন অমান্য করে গণস্বাস্থ্য হুমকিতে ফেলা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

