সোমবার

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের আয়নায় নিজেদের মুখ: শৃঙ্খলাই কি আমাদের সবচেয়ে বড় ঘাটতি?

🕙 প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২৬ । ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

আমরা প্রায়ই উন্নয়নকে দূরের কোনো স্বপ্ন, কোনো প্রকল্প কিংবা কেবল নীতিনির্ধারণের ফল হিসেবে কল্পনা করি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—উন্নয়ন কোনো আমদানি করা বস্তু নয়; এটি একটি জাতির ভেতরকার রূপান্তরের ফল, যা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মানুষের আচরণ, মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে।

এখানে একটি অস্বস্তিকর কিন্তু জরুরি প্রশ্ন সামনে আসে—আমরা কি সত্যিই শৃঙ্খলাবদ্ধ জাতি? নাকি সুযোগ পেলেই নিয়ম ভাঙাকে বুদ্ধিমত্তা হিসেবে দেখি? দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট ক্ষেত্র—রাস্তা, অফিস, বাজার—সবখানেই কি আমরা নিয়ম মানার চেয়ে তা এড়িয়ে চলার পথ খুঁজি না? এই প্রবণতা হয়তো ক্ষণিক সুবিধা দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা একটি জাতির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

শৃঙ্খলা মানে কেবল বাহ্যিক নিয়ম মানা নয়; এটি একধরনের অভ্যন্তরীণ সততা ও দায়িত্ববোধ। যেখানে মানুষ নিয়মকে বাধা হিসেবে দেখে, সেখানে উন্নয়ন টেকসই হয় না। আজ যা নির্মিত হয়, কালই তা ভেঙে পড়ে—কারণ ভিতরে কোনো দৃঢ় ভিত্তি থাকে না।

আমরা প্রায়ই উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে তাদের অর্থনীতি বা প্রযুক্তিকে কারণ হিসেবে দেখি। কিন্তু তাদের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে সামাজিক শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক আস্থার মধ্যে। অন্যদিকে, যেখানে মানুষ একে অপরকে সন্দেহ করে এবং প্রতারণা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, সেখানে উন্নয়ন কেবল বাহ্যিক চাকচিক্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

একটি সমাজে যদি প্রতিটি মানুষ অন্যকে ঠকানোর সুযোগ খোঁজে, তবে সেখানে আস্থা গড়ে ওঠে না। আর আস্থা ছাড়া কোনো অর্থনীতি, কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে না। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখা আসলে আত্মপ্রবঞ্চনা।

সুতরাং, উন্নয়নের প্রশ্নে আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত আত্মসমালোচনা। আমরা কি সাময়িক লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি মেনে নিচ্ছি? নাকি আমরা বুঝতে শিখছি যে শৃঙ্খলা কোনো বাধা নয়, বরং টেকসই অগ্রগতির পূর্বশর্ত?

উন্নয়নকে স্থায়ী করতে হলে প্রয়োজন নীতি নয়, মনোভাবের পরিবর্তন। আইন নয়, তার প্রতি সম্মান। আর এই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে খুব সহজ একটি জায়গা থেকে—আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করা: আমরা কতটা শৃঙ্খলাবদ্ধ?

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ