মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে উন্নয়নের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল যে সেতুর, সেটিই এখন অব্যবস্থাপনার এক বাস্তব চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় আজও ব্যবহারহীন পড়ে আছে। ফলে স্থানীয় মানুষ ও যানবাহনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পুরনো, জরাজীর্ণ সেতু দিয়ে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঝিটকা বাজার সংলগ্ন ইছামতী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৮ টাকায় ধ্রুব কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে চুক্তি হয় ২০২৪ সালের ২৮ জুন। শর্ত অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ পুরো কাজ শেষ করার কথা ছিল।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে বাধার মুখে পড়ে। ঝিটকা বাজার এলাকার কিছু ব্যবসায়ী ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংযোগ সড়ক নির্মাণে বাধা দেওয়ায় কাজটি থমকে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই প্রান্তে কোনো সংযোগ সড়ক নেই—শুধু কিছু বালু ফেলে রাখা হয়েছিল দুই বছর আগে, এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ কারণে পাশের পুরনো সরু সেতু দিয়েই সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু সেই সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ—রেলিং ভাঙা, বিভিন্ন স্থানে ফাটল, যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝিটকা বাজারসংলগ্ন নদীর তীরে থাকা কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ করতে না পারায় সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। দোকান মালিকরা ক্ষতিপূরণ পেলে স্থানান্তরে রাজি থাকলেও এ বিষয়ে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশের ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিকল্প না থাকায় সেটিই ব্যবহার করতে হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন অটোরিকশাচালক মো. রাসেল মিয়া, যিনি জানান, হেঁটেই চলাচল কষ্টকর, সেখানে গাড়ি চালানো আরও বিপজ্জনক।
ধ্রুব কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী সাগর আহমেদ বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ ও দখল সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যায়নি। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং দখলমুক্ত করা গেলে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে থাকা দোকানগুলো উচ্ছেদ এবং ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্যার সমাধান হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালু করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং কোটি টাকার এই প্রকল্প পুরোপুরি ব্যর্থতায় পরিণত হবে।

