মঙ্গলবার

৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে মানসিক রোগী সাজানোর অভিযোগে আ.লীগ নেতা আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

🕙 প্রকাশিত : ৬ এপ্রিল, ২০২৬ । ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

স্ত্রীকে ‘পাগল’ প্রমাণ করে সন্তান নিজের কাছে নিতে জাল-জালিয়াতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক আহসান হাবিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

সমন জারির পরও রোববার (৫ এপ্রিল) আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী রিদওয়ান হোসেন রবিন জানান, সন্তানের অভিভাবকত্ব পেতে জালিয়াতির মাধ্যমে স্ত্রীকে মানসিক রোগী হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগে গত বছরের ১৬ অক্টোবর আহসান হাবিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন তার শ্বশুর।

আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিলে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। এরপর আদালত আসামিকে হাজির হতে সমন জারি করে। নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, আয়েশা আতিকের সঙ্গে পরিবারের অগোচরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আহসান হাবিব। ২০২৪ সালের এপ্রিলে আয়েশা অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরে স্বামীর পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। সেখানে গিয়ে তিনি স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সন্তান প্রসবের জন্য ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর তারা ব্যাংককে যান এবং পরের বছরের ১ জানুয়ারি তাদের পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সুস্থ হয়ে ১২ জানুয়ারি তারা দেশে ফেরেন।

এরপর থেকেই আয়েশার ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে সন্তান রেখে চলে যেতে বলা হয় এবং পরে সন্তানসহ তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, আয়েশাকে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণ করে সন্তানের কাস্টডি নিতে পরিকল্পনা করেন আহসান হাবিব। এ জন্য তিনি জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিদেশি মনোবিদের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে আবার ব্যাংক গিয়ে একই ধরনের মেডিকেল সনদ সংগ্রহ করে আদালতে দাখিল করেন।

ঘটনার পর আয়েশা গত বছরের ৬ এপ্রিল তালাকের নোটিস দেন। পরে দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধারের জন্য ৩০ জুলাই পারিবারিক আদালতে মামলা করেন আহসান হাবিব।

এ ঘটনায় আয়েশার বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ আতিকুর রহমান ১৬ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন। মামলায় আহসান হাবিবের বাড়ির ম্যানেজার রিপন ও সাইফুল ইসলামকেও আসামি করা হলেও সিআইডির প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ