মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, তাদের “বন্ধুপ্রতিম” দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ পাবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। বরং কিছু নির্দিষ্ট দেশের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, যেসব দেশকে ইরান বন্ধুপ্রতিম মনে করে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুমোদন দেওয়া হয়, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদভাবে পারাপারের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী সহযোগিতা করছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই বিশেষ তালিকায় চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশের নাম রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের কিছু জাহাজ এই সুবিধা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যেসব দেশকে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে বা চলমান সংঘাতে জড়িত, তাদের জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না। আরাঘচি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জলপথ দিয়ে শত্রুপক্ষের কোনো জাহাজ চলাচলের সুযোগ নেই।
শিপিং বিশ্লেষণ সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট’ ও ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে, সেখানে এ সময়ে সংখ্যা অনেক কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর নিরাপত্তা ও চলাচল ব্যবস্থাপনা বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্যও এ ধরনের সিদ্ধান্ত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি

