শনিবার

৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জের ফুটবল: সোনালী অতীতের শেষ অধ্যায়ের নায়কেরা

🕙 প্রকাশিত : ৬ মার্চ, ২০২৬ । ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জের ফুটবলের সোনালী অতীতের খেলেয়াড় ছিলেন শহীদ তপন চৌধুরী, রুহুল আমিন বাচ্চু, বিকাশ চৌধুরী বাচ্চু, খোরশেদ আলম চৌধুরী লাভলু, কাঞ্চন মজুমদার, আলাউদ্দিন আহমেদ, শহীদুল ইসলাম খোকন, দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল, মোশাররফ হোসেন বাদলসহ আরও অনেকে। যাঁদের নাম এই মুহূর্তে মনে পরছে না।

শৈশব, কৈশরে এঁদের খেলা দেখতে পাগলের মত দৌড়ে মাঠে গেছি, মুগ্ধ বিস্ময় নিয়ে খেলা শেষে যখন বাড়ি ফিরেছি তখন দুএকজন বাদে বাকি সবার খেলোয়াড়ী জীবনের প্রায় অবসরকাল।

শৈশব, কৈশর, পেড়িয়ে যখন যৌবনে পা দিয়েছি তখন মানিকগঞ্জের ফুটবলে আলো ছড়াতে মাঠে এসেছিলেন আরেক ঝাঁক টগবগে তরুণ প্রাণ। এঁরা ছিলেন মানিকগঞ্জের ফুটবলের সোনালী অতীতের শেষ অধ্যায়ের নায়ক। এদের মধ্যে লাভলু ভাই বয়সজনিত অসুস্থতায় গৃহবন্দী, বিস্ময়কর হলেও খোকন ভাই এখনও মাঠে যান শত তরুণের প্রিয় ” ওস্তাদ” হিসেবে কোচের দায়িত্বও পালন করছেন। তাঁদের নিয়েও অচিরেই লিখবো।

যাঁদের নাম শুরুতে বলেছি তাঁদের কথা মানিকগঞ্জের ইতিহাস, বই, লেখায় কোননা কোনও ভাবে, কোথাও না কোথাও লিপিবদ্ধ আছে কিন্তু সোনালী অতীতের শেষ অধ্যায়ের নায়কদের নাম কোথাও নেই। এঁদের অধিকাংশই আজ পরলোকে। হাতেগোনা যে কজন আজও বেঁচে আছেন, এই শহরে অচেনা মানুষের মত নিভৃতজীবন পার করছেন, তাঁদের নিয়ে আলাদা আলাদা করে লিখে যেতে চাই।
♦শেষ অধ্যায়ের নায়ক যাঁরা..
০১। মহিদ হাসান (৬৮)। বাসা, জন্ম, বেড়ে ওঠা মানিকগঞ্জ শহরের গংগাধর পট্টির খালপাড় এলাকায়।

ফুটবল জীবনের শুরু মানিকগঞ্জ মডেল হাই স্কুল ফুটবল টিমের স্ট্রাইকার হিসেবে। মহিদ হাসানদের কালে মানিকগঞ্জ মডেল হাইস্কুল ঢাকা বিভাগ আন্তঃস্কুল ফুটবল চ্যাম্পিয়নসহ মানিকগঞ্জ মহকুমা ফুটবল লীগে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

১৯৭৯ সালে মানিকগঞ্জ মহকুমা ফুটবল টিম প্রথমবারের মত ঢাকা জেলা আন্তঃমহকুমা ফুটবলে প্রথম এবং সম্ভবত শেষবারের মত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই চ্যাম্পিয়ন টিমের ক্যাপ্টেন ছিলেন মহিদ হাসান।

স্মার্ট, সুদর্শন মহিদ বল পায়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটতে পারতেন , বল নিয়ন্ত্রনের যাদুকরী দক্ষতাসহ যে কোন পজিশন থেকে, যে কোন অবস্থাতেই গোলবারে প্রচন্ড গতিতে শট করে গোল করার অসামান্য দক্ষতা ছিল তাঁর।

ডি-বক্স এরিয়ায় মহিদের পায়ে বল মানেই গোল, নয়তো গোলের সম্ভাবনায় উদ্বেলিত হত সমর্থকরা।

এরপর মানিকগঞ্জের মাঠ ছেড়ে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে টিমের কিং। ১৯৭৯ সালে অভিষেক হয় ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে।
টিম ছিল সে সময়ের দাপুটে টিম ফায়ার সার্ভিস। বেশ কবছর স্বভাবসুলভ নৈপুন্যে মাতিয়েছেন ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবলেরর আঙিনা।

♦♦এই প্রজন্মের যারা তাদের জন্য বলে রাখি:

সে সময়ের ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের জন্য প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার খেলার পাতার অর্ধেক স্পেস বরাদ্দ থাকতো। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের নিউজ, স্টোরিও থাকতো প্রথম পাতায়।

আবাহনী, মোহামেডান, ওয়নান্ডারার্স, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ওয়ারী, পিডব্লিউডি, রহমতগঞ্জের খেলার দিন ছিল স্পোর্টস রিপোর্টারদের বিশেষ দিন। মোহামেডান-আবাহনীর খেলার দিন ছিল ঠিক ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচেন মত টানটান উত্তেজনা আর চরম আগ্রহের দিন।
মোহামেডান-আবাহনীর খেলার দিন এই মানিকগঞ্জ শহরে দুদলের কয়েকশত পতাকা উড়তো। বাস রিজার্ভ করে ঢাকা স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাবার ঘটনাও দেখেছি বহুবার।
.
[ ছবিটি গত পরশু আমাদের বাসার সামনের দোকানে বসিয়ে তুলেছি। প্রায় সত্তরেও সেই আগের মতই দৃষ্টিনন্দন, স্মার্ট।]

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ