নাটোরের সিংড়ায় হাঁসের ডিমের দাম হঠাৎ কমে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চলনবিল অঞ্চলের খামারিরা। এক মাস আগেও পাইকারি বাজারে প্রতি পিস ডিম ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৮ থেকে ১০ টাকায়। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
চলনবিলের বৃহত্তম হাঁসের ডিমের হাট ঘুরে দেখা গেছে, হ্যাচারিতে বাচ্চা ফোটানোর উপযোগী বড় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা পিস দরে। ছোট ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় বিক্রেতারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।
খামারি জাহিদ হাসান বলেন, “ডিমের দাম এত কমে গেছে যে আমরা লোকসানে পড়ে গেছি। এভাবে দাম কম থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। সব ধরনের খাবারের দাম বেড়েছে, অথচ ডিমের দাম কমছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে হাঁস পালন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।”
ডিমের পাইকার শহিদুল জানান, বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলেও বেচাকেনা তুলনামূলক কম। এছাড়া গরমের কারণে ডিমের চাহিদা কিছুটা কমেছে। এ কারণেই দাম কমেছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
চলনবিলের ডিম আড়ৎদার ওহাব বলেন, রমজানকে ঘিরে বাজারে দামের পতন হয়েছে। “খাবারের যে দাম, সেই হিসেবে ডিমের ন্যূনতম দাম ১২ থেকে ১৫ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে ছোট ডিম ৮ থেকে ৯ টাকা এবং বড় ডিম ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে,” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম বলেন, পোল্ট্রি ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারভিত্তিক এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি সাময়িক বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, দ্রুতই খামারিরা ন্যায্য মূল্য ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

