কপ-৩৩ আয়োজনের প্রস্তাব দিতে পারে চীন

শহিদুল ইসলাম সুজনসম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক টেলিগ্রাম
🕙 প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৬ । ৮:৫৫ এএম

বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় নিজেদের নেতৃত্বের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ২০২৮ সালের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩৩) আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে চীন।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, কপ-৩৩ আয়োজনের বিষয়ে চীন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এমনকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমাও ঠিক হয়নি। চলতি বছরই সম্মেলনের আয়োজক দেশ নির্ধারণ করতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতাও নেই।

জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনগুলো বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের মধ্যে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের কপ-৩১ তুরস্কে এবং ২০২৭ সালের কপ-৩২ ইথিওপিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৮ সালের সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওপর পড়বে।

গত এপ্রিল মাসে ভারত কপ-৩৩ আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এর কারণ জানায়নি দেশটি। দক্ষিণ কোরিয়াও এর আগে সম্মেলনটি আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চীনের সম্ভাব্য উদ্যোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটনে দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) সচিবালয় জানিয়েছে, কপ-৩৩-এর আয়োজক দেশ হিসেবে এখনো কোনো দেশের নাম এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক জোট তাদের জানায়নি।

সচিবালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ আয়োজক হওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক জোটের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে। ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর আঞ্চলিক জোটের চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সচিবালয়ে আয়োজক দেশের নাম প্রস্তাব করেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে চীন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বেরিয়ে গেছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন আয়োজন চীনের জন্য নিজেদের জলবায়ু নেতৃত্বের দাবি আরও জোরালো করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক স্বার্থও রয়েছে। সৌর প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি রপ্তানিতে দেশটি বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়।

তবে সম্মেলন আয়োজন করলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজেদের ভূমিকা নিয়েও চীনকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারে। ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যা ও বিশাল শিল্প উৎপাদনের কারণে চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

চীন ২০৬০ সালের আগে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে অর্থনীতিজুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় মাত্র ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, কপ-৩৩ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনার সময় চীন যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিও হিসাব করছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ২০২৮ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে কপ-৩৩ দুই দেশের মধ্যে নতুন করে জলবায়ু সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সম্মেলনটি সম্ভবত ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক দিন পর অনুষ্ঠিত হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ই৩জি-এর বিশেষজ্ঞ অ্যালডেন মেয়ার বলেন, গত ৩৫ বছরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক কখনো অগ্রগতির, আবার কখনো উত্তেজনার কারণ হয়েছে। আগামী মার্কিন নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ