মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালডাঙ্গি হাসানের বাড়ি থেকে আকবরের বাড়ি পর্যন্ত গ্রামীণ রাস্তা পুনর্নির্মাণ ও মাটি ভরাট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ না হলেও বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সিরাজুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমপি কোটা থেকে প্রকল্পটির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের কাজ এবং অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো রাস্তার কাজ সম্পন্ন না করে শুধু শুরু অংশে কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। শেষের দিকে কয়েকটি স্থানে ভেকু দিয়ে রাস্তার দুই পাশে আংশিক মাটি ভরাট করা হলেও মাঝামাঝি বড় অংশে তেমন কোনো কাজের চিহ্ন নেই। ফলে রাস্তাটি এখনও স্থানীয় মানুষের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের পুরো অর্থ রাস্তার উন্নয়নে ব্যয় করা হয়নি। তাদের দাবি, বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হলে পুরো রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব ছিল। তারা এ বিষয়ে সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরের হস্তক্ষেপ এবং প্রকল্পের কাজ পুনরায় সঠিকভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই কীভাবে প্রকল্পের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় তথ্য চাইলে সহজে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

