এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়া আরও চরম হতে পারে, সতর্ক করল জাতিসংঘ

শহিদুল ইসলাম সুজনসম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক টেলিগ্রাম
🕙 প্রকাশিত : ১ আগস্ট, ২০২৬ । ৮:০৫ এএম

এল নিনোর প্রভাবে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, চলমান দাবানল, তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার মতো দুর্যোগ পরিস্থিতিকে এল নিনো আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘের আওতাধীন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।

ডব্লিউএমওর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জলবায়ুগত ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এমন এক সময়ে এ সতর্কতা এসেছে, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ভারী বর্ষণের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এল নিনো এখন আর কেবল সম্ভাবনা নয়, এটি ইতোমধ্যেই বাস্তবে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তার ভাষায়, এটি তাপমাত্রা আরও বাড়াচ্ছে এবং ইতোমধ্যে সংকটে থাকা অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়ার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলবে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

জাতিসংঘের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এ কারণে দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণ বর্তমান জলবায়ু সংকটকে আরও তীব্র করছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে আগাম সতর্কবার্তাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। তিনি বলেন, পূর্বাভাস নিজে থেকে দুর্যোগ প্রতিরোধ করতে পারে না; কার্যকর উদ্যোগই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে।

এদিকে, বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট মাত্রা নিয়ে কম্পিউটারভিত্তিক পূর্বাভাসে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ