দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসা পর্যন্ত সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) লোহাগাড়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক হিসাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রায় সাত লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৪০ হাজার পরিবারকে চাল, ৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনা খাবার এবং ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য টিন সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা আবারও চাষাবাদ শুরু করতে পারেন।
তিনি আরও জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়ন শেষ হলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
বন্যার কারণ প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কোথাও রেললাইন, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত—সব বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই দিন সাতকানিয়া উপজেলায় তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির উদ্যোগে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের সময়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও ব্যবসায়ী সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতি যেভাবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত এবং এই উদ্যোগ অন্যদেরও মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তামাকুমন্ডি লেইনের ব্যবসায়ীরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো সামাজিক ও মানবিক সংকটে তাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

