মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ১৬ বছর বয়সী কিশোর অটোরিকশাচালক সাকিবুল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান আসাদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ দুপুর পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী।তিনি জানান গত ৩০ জুন বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা এলাকা থেকে বাবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বের হয় সাকিবুল। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরদিন ভোরে সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়নের গোলাইডাঙ্গা-বাংলা বাজার সড়কের পাশের একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাকিবুলের বাবা রহমত আলী পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। অসুস্থ থাকায় সেদিন বাবার অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিল সাকিবুল।
ঘটনার পর পিবিআই মানিকগঞ্জের একটি তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যাত্রীবেশে থাকা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পিবিআই।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকার মাদ্রাসা গেট থেকে আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসাদের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোলাই নতুনপাড়া এলাকায়। তিনি সাভারের একটি হোটেলে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ জানান, ঘটনার দিন তিনি সাকিবুলের অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে ওঠেন। পথে সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে অটোরিকশা ঝাঁকুনি দিলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে ধস্তাধস্তির সময় সাকিবুলের মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
পিবিআই জানায়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্যান্ডেল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের অটোরিকশাটিও পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তাফা কামালের তত্ত্বাবধান এবং মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পীর নির্দেশনায় পরিচালিত তদন্তে এই অগ্রগতি আসে বলে জানানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


