টানা দ্বিতীয় রাত ইরানে মার্কিন হামলা, নতুন করে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

🕙 প্রকাশিত : ২৮ জুন, ২০২৬ । ৪:৪৯ এএম

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে রাতভর সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী হামলা-পাল্টা হামলার কারণে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রামের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবারও একই এলাকায় হামলা হয়েছিল। এছাড়া কেশম দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা পূরণ না করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তিনি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে দায়ী করেন। যদিও উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করে আসছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন, “ইরান কখনোই শিক্ষা নেবে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আর ধৈর্য ধরতে পারব না। আমরা যে অভিযান শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে শেষ করতে বাধ্য হব। এমন হলে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”

এর আগে শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘কিকু’ অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কোনো নাবিক আহত হননি এবং জাহাজে থাকা তেলেরও ক্ষতি হয়নি।

সেন্টকম জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল এবং এটি আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিক ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারটি বৃহস্পতিবার আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ