রবিবার

২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

🕙 প্রকাশিত : ২০ জুন, ২০২৬ । ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

রহস্যে ঘেরা বরফাচ্ছন্ন মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকাকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান থেমে নেই। এবার পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তরের নিচে পাখা আকৃতির এক বিস্ময়কর ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর সন্ধান মিলেছে, যা পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন ও বরফস্তরের স্থিতিশীলতা নিয়ে গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই কাঠামোটি মূলত অসংখ্য উপ–হিমবাহ অববাহিকা বা বেসিনের জটিল সমন্বয়ে গঠিত। কয়েকটি অঞ্চলে বরফের স্তর তিন কিলোমিটারেরও বেশি পুরু। এর মধ্যে উইলকস ও অরোরা বেসিনসহ গুরুত্বপূর্ণ উপ–হিমবাহ অঞ্চল রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উপ–হিমবাহ হ্রদ লেক ভোস্টকও এই বিশাল কাঠামোর ভেতরে অবস্থিত বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক একদল গবেষক ইতালির ইউনিভার্সিটি অব জেনোয়ার বিজ্ঞানী ইজিডিও আরমাডিলোর নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালনা করেন। তারা এই নতুন ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলের নাম দিয়েছেন “ইস্ট অ্যান্টার্কটিক ফ্যান–শেপড বেসিন প্রভিন্স”। গবেষকদের মতে, এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ রোটেশনাল এক্সটেনশন কাঠামো, যা প্রাচীন সুপারকন্টিনেন্ট গন্ডোয়ানার ভাঙন ও টেকটোনিক পরিবর্তনের ইতিহাস বহন করছে।

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ভূসংস্থান বিশ্লেষণ, চৌম্বকীয় তথ্য, মহাকর্ষীয় পরিমাপ, ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য ও লিথোস্ফিয়ারিক মডেল ব্যবহার করেছেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মহাদেশীয় ভূত্বকের ধীর প্রসারণ ও ঘূর্ণনধর্মী পরিবর্তনের ফলে এই কাঠামোর সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু ভূতাত্ত্বিক গবেষণার ক্ষেত্রেই নয়, বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বরফের নিচে থাকা পাথুরে কাঠামোর ধরন অ্যান্টার্কটিকার বরফস্তরের গতি ও গলনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে কোন অঞ্চল ভবিষ্যতে দ্রুত বরফ হারাতে পারে, তা নির্ধারণে এই গবেষণা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা এই জটিল ভূতাত্ত্বিক কাঠামো ভবিষ্যতে অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশগত পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ