শনিবার

১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুঁড়ি বাড়লে বাড়ে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

🕙 প্রকাশিত : ১৩ জুন, ২০২৬ । ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান সময়ে পেটের মেদ বা ভুঁড়ি শুধু মধ্যবয়সীদের নয়, তরুণ পুরুষদের মাঝেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ এবং পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াকে এ সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অতিরিক্ত পেটের মেদ শুধু শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে না, এটি নানা জটিল রোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমলে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এসব সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসই বড় কারণ

পেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। প্রতিদিনের খাবারে অতিরিক্ত ভাত, রুটি ও কার্বোহাইড্রেটজাত খাবার থাকলেও প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমে ধীরে ধীরে চর্বিতে পরিণত হয়।

এ ছাড়া মিষ্টি চা, কোমল পানীয়, বিস্কুট, ফাস্টফুড ও জাঙ্ক ফুড নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসও ওজন বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। এসব খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি ও ক্যালোরি থাকে, যা পেটের চারপাশে চর্বি জমাতে সাহায্য করে।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রায় অধিকাংশ মানুষ দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন। অফিস, যানজট ও ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়ামের সুযোগ কমে গেছে। ফলে শরীরে যত ক্যালোরি প্রবেশ করছে, তার তুলনায় অনেক কম ক্যালোরি খরচ হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত চর্বি জমে সহজেই ভুঁড়ি তৈরি হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। পাশাপাশি সপ্তাহে কয়েকদিন নিয়মিত ব্যায়ামও জরুরি।

দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার ক্ষতি

অনেকেই রাত ১০টা বা ১১টার পর খাবার খেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। এতে খাবার সঠিকভাবে হজম হওয়ার সুযোগ পায় না এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাতের খাবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শেষ করা ভালো।

মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতিও দায়ী

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং ওজন বাড়তে শুরু করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ব্যাহত হয়, যা স্থূলতার ঝুঁকি আরও বাড়ায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন পেটের মেদ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেটের মেদ কমাতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, দুধ ও পনিরের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। পাশাপাশি চিনি, কোমল পানীয় ও জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলতে হবে।

এ ছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং সময়মতো ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুললে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায়।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, মায়ো ক্লিনিক, ইন্ডিয়া টুডে

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ