নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন ক্লাব মাঠের পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন জিসান আহমেদ প্রধান। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন ক্লাব মাঠসংলগ্ন একটি দোকানের পাশে জিসানকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পৌরসভা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. নুরে আলম ও কর্মী আবুবকর জাহিদ তাকে উদ্ধার করে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের বরাত দিয়ে জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী বলেন, “একটি চক্র জিসানকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত ফোন নম্বরও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।”
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে জিসানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উদ্ধারের পর তারা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
জিসানকে উদ্ধারের খবর পেয়ে কুমিল্লা জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাজাহান, কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা হাসপাতালে যাই। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী জিসানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো অচেতন অবস্থায় আছেন। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

