বুধবার

৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে নতুন নেতৃত্বে খলিলুর রহমান, শান্তি ও উন্নয়নে দিলেন ৬ দফা রূপরেখা

🕙 প্রকাশিত : ৩ জুন, ২০২৬ । ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও সমর্থনের কারণেই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। দায়িত্বটি তিনি বিনয়, সততা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে পালন করবেন বলেও জানান।

এ সময় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতাকারী বিভিন্ন দেশের জনগণ, তার টিম এবং আন্তর্জাতিক শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কাকৌরিস একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক প্রচারণা পরিচালনা করেছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

বক্তব্যে ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ এমন এক সময়ে নবম দশকে প্রবেশ করছে, যখন বিশ্বজুড়ে সংঘাত, মানবিক সংকট, উন্নয়নগত স্থবিরতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতিসংঘের আর্থিক সংকট, যা সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

এসব সংকট মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০৩০ এজেন্ডার অনেক লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া এসডিজি অর্থায়ন, ঋণ ব্যবস্থাপনার স্থায়িত্ব, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ইউএনজিএর নবনির্বাচিত সভাপতি।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচিসহ আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন ড. খলিলুর রহমান।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ