দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে অভিবাসীবিদ্বেষী হামলায় অন্তত পাঁচজন মোজাম্বিকান নিহত হয়েছেন। মোজাম্বিক সরকার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘটনায় নিজেদের নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) মোজাম্বিক সরকারের প্রেস অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান সহিংসতায় মোট সাতজন মোজাম্বিকান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন সরাসরি অভিবাসীবিদ্বেষী হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। বাকি দুজন সহিংসতা থেকে পালিয়ে নিজ দেশে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
গত শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় শহর মোসেল বে-তে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রায় ৮০০ মোজাম্বিকান নাগরিক ঝুঁকির মুখে পড়েন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে অন্তত ৩০০ জন নিজ উদ্যোগে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মোজাম্বিকে ফিরে যান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে ৫০০ জনের বেশি মোজাম্বিকান নাগরিককে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করেছে মোজাম্বিক সরকার।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ জানিয়েছে, মোসেল বে বন্দরের একটি অস্থায়ী বসতিতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে এ মৃত্যু সরাসরি অভিবাসীবিরোধী সহিংসতার সঙ্গে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
মোসেল বে শহরের মেয়র ডার্ক কোটজে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “নিরীহ মানুষকে হত্যা, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া এবং পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জোহানেসবার্গ, ডার্বিন ও ইস্টার্ন কেপসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নভেম্বরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক স্বার্থে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় এর আগেও একাধিকবার অভিবাসীবিদ্বেষী সহিংসতা দেখা গেছে। ২০০৮ সালের দাঙ্গায় কয়েক ডজন বিদেশি নাগরিক নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এছাড়া ২০১৫ ও ২০২১ সালেও একই ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

