মানিকগঞ্জে শেষ হলো ভূমি মেলা ২০২৬: এসিল্যান্ডের আন্তরিকতায় মুগ্ধ সেবাগ্রহীতারা
ভূমি অফিস মানেই একসময় ছিল দীর্ঘ লাইন, ফাইলের স্তূপ আর অন্তহীন অপেক্ষার প্রহর। কিন্তু সেই চিরচেনা রূপ বদলে দিয়ে মানিকগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের আঙিনা যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো উৎসবের ময়দানে। উপলক্ষ—‘ভূমি উন্নয়ন মেলা ২০২৬’। মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য; একদিকে কর্মকর্তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই, অন্যদিকে সেবাগ্রহীতাদের চোখে-মুখে স্বস্তির ঝিলিক।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ছিল ৩ দিনব্যাপী এই মেলার শেষ দিন। শেষ মুহূর্তেও মেলা প্রাঙ্গণে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কেউ এসেছেন অনলাইনের খাজনা দিতে, কেউ ই-নামজারির জট ছুটাতে, আবার কেউ এসেছেন কেবলই সঠিক পরামর্শের খোঁজে। তবে মেলাজুড়ে সবচেয়ে বড় স্বস্তি ছিল—কোনো দালালের দৌরাত্ম্য নেই, নেই অতিরিক্ত কাগজপত্রের ঝামেলা।
মেলায় সেবা নিতে আসা শহরের পশ্চিম দাশড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন একই ছাদের নিচে সব সেবা পেয়ে মেলা থেকেই আমার নামজারির আবেদন ও যাচাই শেষে প্রস্তাব সম্পন্ন হয়ে গেছে। সত্যি বলতে, বর্তমান মানিকগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন আপা ভীষণ ভালো মানুষ। যেকোনো সমস্যা নিয়ে ওনার কাছে গেলে খুব দ্রুত সমাধান করে দেন। ওনার ব্যবহার অত্যন্ত আন্তরিক এবং উনি ভীষণ পরিশ্রমী। ওনার মতো কর্মকর্তার জন্য মন থেকে দোয়া আসে।
ডিজিটাল ভূমিসেবার এই সফল রূপান্তর নিয়ে মানিকগঞ্জ পৌর ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “অনলাইন পদ্ধতি আসায় এখন আর আগের মতো জটিলতা নেই। একই ছাদের নিচে সব সেবা পেয়ে মানুষ ভীষণ খুশি। এই ৩ দিনে প্রতিদিন অনেক মানুষকে আমরা সরাসরি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পেরেছি।”
স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১-এর অভিমুখে ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ভূমিসেবা যে এখন সত্যিই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়, মানিকগঞ্জ সদরের এই মেলা এবং রিক্তা খাতুন স্যারের মতো কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা তারই এক অনন্য ও সফল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।



