মানিকগঞ্জে হামের উপসর্গে পাঁচ মাসের শিশুর মৃত্যু, শোকাহত পরিবার

🕙 প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ১১:০১ এএম

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথুলী গ্রামে হামের উপসর্গে পাঁচ মাস বয়সী শিশু রাতুলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রাতুল আলী আজগর ও রঞ্জু আক্তার দম্পতির সন্তান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জন্ম নেওয়া শিশুটি জন্মের পর কিছুদিন সুস্থ থাকলেও তিন মাস বয়সে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়। চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠলেও চলতি মাসের শুরুতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।
প্রথমে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তাকে। অবস্থার অবনতি হলে জেলা সদর হাসপাতাল ঘুরে ভর্তি করা হয় মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শিশুটির বাবা, পেশায় অটোরিকশাচালক আলী আজগর বলেন, অর্থাভাবে সন্তানের উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ঠান্ডাজনিত সমস্যা থেকে নিউমোনিয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা হামের উপসর্গ হিসেবে চিহ্নিত।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে মানিকগঞ্জে হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিবালয়সহ সিঙ্গাইর, সাটুরিয়া, ঘিওর, হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৩৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১৯১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের বিস্তার রোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮২৩ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে, যা ১১ কর্মদিবস ধরে চলবে।
সিভিল সার্জন ডা. মোফাখখারুল ইসলাম জানান, নিহত শিশুটি ইপিআই কর্মসূচির মাত্র একটি টিকা পেয়েছিল। তিনি হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ