ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় কারাগারে বিদিশা সিদ্দিক

🕙 প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট, ২০২৬ । ১২:৫১ পিএম

রাজধানীর বারিধারায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা-পুলিশ। পরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। শুনানির সময় তাকে এজলাসে না তুলে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

মামলাটিতে গত ২০ মে বিদিশার অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। রায়ে প্রতারণার দায়ে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় তিনি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

বুধবারের শুনানিতে বিদিশার আইনজীবী আতিকুর রহমান উচ্চ আদালতে আপিল করার শর্তে বিশেষ বিবেচনায় জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, মামলাটিতে আগে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যাহার করা হয়। তার মক্কেলের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে বলেও যুক্তি দেন তিনি।

তবে জামিনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান এবং রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, প্রায় আড়াই দশক ধরে চলা মামলায় বিদিশা আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং মামলার সমন ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত থাকার পরও দীর্ঘদিন আদালতে হাজির হননি।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক বিদিশার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগ

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।

অভিযোগে বলা হয়, ফ্ল্যাট কেনার সূত্রে পরিচয়ের পর ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে একই বছরের ১০ জুলাই বনানীর রজনীগন্ধা কার্যালয়ে বাদীকে ডেকে তার মনোনীত প্রতিনিধি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার গ্রহণ করেন বিদিশা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের পর তাদের মধ্যে একটি বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন সাপেক্ষে বাকি টাকা নিয়ে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

পরবর্তীতে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা তাকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর বিদিশা ফ্ল্যাট বা টাকা কোনোটিই ফেরত দেননি। উল্টো বাদীকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ