শিবচরে মাকে হত্যার পাঁচ দিন পর নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

🕙 প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট, ২০২৬ । ১২:২৯ পিএম

মাদারীপুরের শিবচরে মাকে ধর্ষণ ও হত্যার পাঁচ দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে এক বছর বয়সী শিশু আবিরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার প্রধান আসামি ফারুক মোল্লা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের আ. মান্নান হাজীর মোড়সংলগ্ন মাদরাসা ঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে শিবচর থানা ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর থানার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামের খান বাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার পাশের একটি জমির ঝোপে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত নারী শম্পা খাতুন (২৮), তিনি নাটোরের লালপুর থানার বেরিলাবাড়ি পোস্টের আট্রিকা গ্রামের সামরুল ইসলামের মেয়ে।

নিহতের বাবা ও মামলার বাদী সামরুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে শম্পার বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী ছেলে আবির ছিল। ১৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান তিনি। একই সময়ে জানতে পারেন, তার নাতি আবিরও নিখোঁজ রয়েছে।

এ ঘটনায় ২০ আগস্ট শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন সামরুল ইসলাম।

মামলার পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার ও শিবচর সার্কেলের মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র‌্যাব-৮-এর একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, শিবচর ও রাজৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা গ্রামের রতন মোল্লার ছেলে এবং শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দিতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

তল্লাশির সময় ফারুকের হেফাজত থেকে শম্পা খাতুনের ব্যবহৃত স্বর্ণের নাকপিন ও রুপার গলার চেইন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাড়ির চুলা থেকে পোড়া অবস্থায় শম্পার একটি ওড়না ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক শম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং তার শিশু সন্তান আবিরকে হত্যা করে নদে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এরপর নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে আড়িয়াল খাঁ নদে অভিযান চালানো হয়। পাঁচ দিন পর সোমবার সকালে নদ থেকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ