বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক ১ম বারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি ২০২৬ (২০ আগস্ট ২০২৬ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬)-এর সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকাল ১১:০০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মানিকগঞ্জের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সাইফুল আহমাদ, চীফ নেভাল আর্কিটেক্ট, নৌপরিবহন অধিদপ্তর । পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নৌযান শুমারি সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন জনাব মোঃ মিনার উদ্দীন, উপপরিচালক, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, মানিকগঞ্জ।
নৌযান শুমারি ২০২৬ বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, মানিকগঞ্জ। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), নৌপুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয় দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানসমূহের ডাটাবেইজ প্রবর্তন এবং ডাটাবেইজ প্রবর্তনের মাধ্যমে ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত নৌযানসমূহকে Inland Shipping Ordinance, 1976 এবং Merchant Shipping Ordinance, 1983 মোতাবেক নিবন্ধনসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যবহারের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক বিবিএস এর মাধ্যমে নৌযান শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সকল সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযান এবং ডাম্ববার্জ ও অন্যান্য যে কোন নৌযান যা যন্ত্রচালিত নয়, তবে অন্য কোন যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ সকল নৌযানসমূহের ডাটাবেইজ প্রণয়ন এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনা করা হবে। বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয়, অভ্যন্তরীণ এবং অন্যান্য (বিভিন্ন থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক বা রিসোর্টের কৃত্রিম লেক বা জলাশয়ে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিন চালিত ছোট-বড় নৌযান বা স্পিডবোট) জলসীমায় চলাচলকারী সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযান, ডাম্ব বার্জ (Dumb Barges) এবং অন্য যেকোনো নৌযান যা নিজস্ব ইঞ্জিনে চলে না, কিন্তু অন্য কোনো যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কা দিয়ে চালানো হয়, এরূপ সকল নৌযান শুমারিতে গণনা করা হবে। ।অপরদিকে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সকল নৌযান/জাহাজ এবং তাদের মালিকানাধীন যে সকল নৌযান বর্তমানে অন্যান্য বাহিনী বা সংস্থার কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে, সেগুলো এই নৌ-শুমারির আওতার বাইরে থাকবে এবং সাধারণ নৌকা যা ইঞ্জিনচালিত নয়; তা শুমারির আওতার বাইরে থাকবে।
নৌযান ঘাটসমূহের সঠিক অবস্থান ও নৌযানের সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য ৪-১৭ মে সময় লিস্টিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়। লিস্টিং অপারেশনের মাধ্যমে একজন লিস্টার লিস্টিং ম্যাপে ঘাটের অবস্থান নির্ণয় করেন এবং CAPI Apps এর মাধ্যমে নৌযান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদি এন্ট্রি প্রদান করেন। লিস্টিং অপারেশন পরিচালনার সময়ে প্রকল্প দপ্তর হতে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে জোন ও গণনা এলাকা গঠনের নির্দেশনা প্রদান করা হয় । জেলা ও উপজেলা সমন্বয়কারীগণ লিস্টারদের সহায়তা নিয়ে জোন ও গণনা এলাকা গঠন করেন। এক্ষেত্রে তারা প্রকল্প দপ্তর হতে প্রদানকৃত লিস্টিং এরিয়া ম্যাপে জোন ও গণনা এলাকা গঠন করেন এবং হালনাগাদকৃত ম্যাপ সমূহ প্রকল্প দপ্তরে জমা প্রদান করেন। এছাড়া, ইন্টিগ্রেটেড সেন্সাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ICMS) এ তথ্য এন্ট্রি করা হয়। ২য় জোনাল অপারেশনের মাধ্যমে গণনা এলাকায় ম্যাপের সঠিকতা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রদান করে মানিকগঞ্জ জেলাকে ৭টি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে ৫১ জন গণনাকারী ১২২টি ঘাটে ১১৫টি গণনা এলাকায় ২৩৮৩ টি জাহাজ ও ১০৫৩ টি খানাসহ মোট ৩৪৩৬ টি নৌযানের তথ্য পাওয়া গেছে।
নৌযান শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি/বেসরকারি কোন দপ্তর/প্রতিষ্ঠানের নিকট অভ্যন্তরীণ নৌযানের কোন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না থাকা, নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নৌ-পরিবহন খাতে নিয়োজিত মালিক ও শ্রমিকদের নির্ভুল ডাটাবেইজ ব্যবহারের মাধ্যমে নৌ-দুর্ঘটনা পরবর্তী প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত সনাক্তকরণ এবং স্বচ্ছতার সাথে আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতকরণ, নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির নিমিত্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, নৌ পরিবহন ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরি করা এবং শুমারির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ডাটাবেইজ বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক অফিশিয়াল ডাটা হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
সর্বোপরি সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে শুমারি কার্যক্রম সুষ্ঠু, নির্ভুল ও সময়মতো সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নৌযান মালিক, মাঝি-মাল্লা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সফল ও মানসম্মত শুমারি সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

