মানিকগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হত্যা, আত্মহত্যা, গণপিটুনি ও সামাজিক সহিংসতা। মাত্র তিন মাসে জেলায় ১০টি খুন এবং ৫৭টি অপমৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের তথ্য বলছে, পারিবারিক কলহ, জমিজমা বিরোধ, সামাজিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ সহিংসতার জন্ম হচ্ছে।
শুধু এপ্রিল মাসেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—সদর উপজেলার হাটিপাড়ায় ৭ বছরের শিশু আতিকা আক্তারের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার, যা পুরো জেলাকে নাড়িয়ে দেয়। স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন অভিযুক্তের বাবা ও চাচা।
অন্যদিকে, শিবালয়ে গ্রাম্য সালিশে নির্মম শারীরিক নির্যাতনের অপমান সইতে না পেরে নাজমা আক্তার নামে এক তরুণীর আত্মহত্যা জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
সিংগাইরেও জমিজমা বিরোধে ছোট ভাইয়ের হামলায় বড় ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা সামাজিক বন্ধনের ভয়াবহ অবক্ষয়কে সামনে এনেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক মূল্যবোধের অবনতি, বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা এবং মাদকের বিস্তার সমাজকে ক্রমেই সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম জানিয়েছেন, অধিকাংশ ঘটনাই সামাজিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের ফল, তাই প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, এখনই কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ, নৈতিক শিক্ষা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

