বুধবার

১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রামবাসীর উদ্যোগে সাটুরিয়ায় নির্মিত সেতু, স্বস্তি ফিরেছে ১২ গ্রামের মানুষের জীবনে

🕙 প্রকাশিত : ৭ মে, ২০২৬ । ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামে গাজীখালী নদীর ওপর সরকারি সহায়তার অপেক্ষা না করে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন আশপাশের ১২টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের সেতুটি কান্দাপাড়া, নয়াপাড়া, ভগনপুর কেষ্টি, গাঙ্গুটিয়া ও ধানকোড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করেছে। ২০২৫ সালের মার্চে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের মার্চেই এটি চলাচলের উপযোগী হয়।
বর্তমানে সেতুটি দিয়ে ভ্যান, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসসহ ছোট যানবাহন চলাচল করছে। ফলে বারোবাড়িয়া ও নয়াডিঙ্গি বাজারে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের সময় ও ঝুঁকি দুটোই কমেছে।
কান্দাপাড়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা জানু মিয়া বলেন, আগে বর্ষা এলেই নৌকায় নদী পার হতে হতো, আর শুকনো মৌসুমে ভরসা ছিল বাঁশের সাঁকো। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। এবার বর্ষায় আর সেই ভোগান্তি থাকবে না।
স্থানীয় ভ্যানচালক পারভেজ জানান, আগে মালামাল নিয়ে নদী পার হতে ভ্যান এপাড়ে রেখে নৌকায় ওপারে যেতে হতো অথবা ৪ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হতো। এখন সহজেই সরাসরি যাতায়াত করা যাচ্ছে।
মাদ্রাসাছাত্রী আনিসা জানায়, বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগত। নতুন সেতু হওয়ায় এখন নিরাপদে মাদ্রাসায় যেতে পারছে সে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, বহুবার সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও সেতু না হওয়ায় গ্রামের মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নেন। কেউ ৫ হাজার, কেউ ৩ হাজার টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করেন। গ্রামবাসীর অর্থে পিলার ও ভিম ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা সেতুর স্টিলের পাটাতনের ব্যয় বহন করেন।
সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জানান, রোজার ঈদের সময় গ্রামবাসীর বৈঠকে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে সেতুর পাটাতন ৬ ফুট হলেও শিগগিরই তা ৮ ফুটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এই সেতুর ফলে এখন রোগী পরিবহন, বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া এবং দৈনন্দিন চলাচলে সময় ও খরচ—দুইই কমেছে। বহুদিনের কষ্টের অবসান ঘটিয়ে সেতুটি এখন এলাকাবাসীর স্বস্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ