একদিকে শুরু চলছে ভূমি সেবা সপ্তাহ অপর দিকে চলছে ভূমি ধংস্ব,নীরব প্রশাসন-অসহায় জনগন মানিকগঞ্জের শিবালয়ে প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে চলছে অবাধে ৩ ফসলি জমির মাটি কাটা ভুক্তভোগীদের সাথে এসি ল্যান্ডের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আচরণের অভিযোগ-জমি রক্ষার দাবী কৃষকদের। মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর মৌজার দুবুলিয়া গ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানের উপজেলা প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় চলছে ৩ ফসলি জমির মাটি খনন ও বিক্রি এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের। অপর দিকে মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে সহকারী কমিশনারে (ভূমি) নিকট আবেদন দিতে গেলে অভিযোগকারীদের সাথে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আচরণের অভিযোগও করেছেন এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ কৃষকগন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ এই মাটি খেকো গ্রæপগুলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাবে খুবই শক্তিশালী তাই জনগন অসহায় অবস্থায় আছে।গত ৯ মে স্থানীয় চান বেপারীর ৫০ শতাংশ জমিতে মানিককগঞ্জের বাবু,ভবানীপুরের আমজান,স্থানীয় রুবেল ও মতিয়ারের সহযোগীতার ৩ ফসলি জমিতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে।অভিযোগকারী মোঃ দলিল উদ্দিন জানান,জেলা পর্যায়ের এক প্রভাবশালী যুবদল নেতা এ নেপথ্যে রয়েছে।

এখানে ভেকু দিয়ে মাটি খনন করলে আশে-পাশের কয়েক বিঘা জমি ভেঙ্গে যাবে এবং আবাদ করা সম্ভব হবে না।বিষয়টি নিয়ে গত ১১ই মে স্থানীয় জনগনের স্বাক্ষর ,চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সুপারিশ সহ মাটি কাটা বন্ধের জন্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার ও এসি ল্যান্ড জান্নাতুল নাইম এর নিকট আবেদন জমা দেন।এ সময় এসিল্যান্ড স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর জব্বার ও আভিযোগকারীদের সাথে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও অসৌজন্যমূলক আচরন করেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বিষয়টি নিয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকারের সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের জানান ,অভিযোগপত্রটি ও কোন ছবি থাকলে আমাকে দেন আমি ব্যবস্থা নিবো।তখন তাকে অভিযোগ পত্রের ছবি ও মাটি কাটার ছবি প্রদান করা হয়।ভুক্তভোগী দলিল উদ্দিন জানান, অভিযোগ প্রদানের ১দিন পর আবার পুৃরো দমে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা শুরু করলে আমি রাত ১০টার দিকে ইউএনও সাহেবকে ফোনে অবহিত করি এবং তিনি রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন।তিনি আসার আগেই মাটি কাটা বাহিনী তাদের যাবতীয় সরঞ্জাম দূরে সরিয়ে ফেলে। আবার গত ১৫ই সারা রাত তারা মাটি কেটেছে এবং বিষয়টি ইউএনও সাহেব কে জানালে তিনি বলেন,আমি ব্যবস্থা নিবো কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেন নাই।এলাকাবাসীর অভিাযোগ উপজেলা প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সমর্থনেই চলছে এই তান্ডব লীলা।এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তাও নষ্ট হচেছ এই মাটির ট্রাকের কারনে।
শিবালয় উপজেলার এসিল্যান্ডের সাথে এই বিষয়ে আলাপ হলে তিনি বলেন,আসলে আমাকে বলে লাভ নেই।নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশ দিলেই আমি কাজ করতে পারি।একই বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মোহাম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন,এটা মোবাইল কোর্ট করার বিষয় এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে আপনার অবহিত করেন।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবী,আমরা প্রশাসনের নিকট গেলেও কোন সমাধান তো পায়ই না উল্টো তাদের চোখ রাঙ্গনী দেখতে হয়।একদিকে চলছে ভূমি সেবা সপ্তাহ আবার অপর দিকে চলছে ভূমি ধংস্বের মহোৎসব।প্রধান মন্ত্রী যেখানে দেশের জনগনের স্বার্থে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন ,সেখানে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের নিকট হতে আমরা আরো দায়িত্বশীল আচরন প্রত্যাশা করি।তারা ৩ ফসলি জমির মাটি কাটা,রাস্তা-ঘাট নষ্ট করা সহ বেআইনি সকল প্রকার কর্মকান্ড বন্ধের দাবী জানান।

