শনিবার

১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে বন্ধ ইছামতী নদী খননকাজ, নির্ধারিত সময়ে শেষ নিয়ে শঙ্কা

🕙 প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ । ১:৫২ অপরাহ্ণ

পাবনা শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ইছামতী নদীর খননকাজ জ্বালানি সংকটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে খননযন্ত্র বা এক্সক্যাভেটরগুলো বন্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বিভিন্ন অংশে ব্যবহৃত যান্ত্রিক সরঞ্জামগুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে। শ্রমিক ও চালকরাও কাজের অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন।

সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আহাদ বিল্ডার্স’সহ স্থানীয় ঠিকাদাররা জানান, বাজারে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে খনন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

আঁটুয়া হাউজপাড়া এলাকায় এক্সক্যাভেটর চালক জনি বলেন, “এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডিজেল পাই না। মেশিন চালানো তো দূরের কথা, বসে বসে সময় কাটাচ্ছি।”

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পাবনা শহরের বাসিন্দা আলফাজ মিয়া বলেন, “বারবার কাজ বন্ধ হচ্ছে। বর্ষা আসছে, কিন্তু কাজের অগ্রগতি নেই। এতে জনগণের অর্থের অপচয় হবে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি ও যন্ত্রপাতির ভাড়াও বাড়ছে। সময়মতো কাজ শেষ না হলে প্রকল্প ব্যয় আরও বাড়ার পাশাপাশি বর্ষায় খনন করা অংশ আবার ভরাট হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।

তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সাময়িক বলে দাবি করেছে। ‘ইছামতী নদী পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিতকরণ’ প্রকল্পের পরিচালক সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। দ্রুতই সংকট সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামতী নদী পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্প শুরু হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে মোট ১১০ কিলোমিটারের বেশি নদী ও লিংক চ্যানেল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ