দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন শিশু আক্রান্ত হচ্ছে, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে অসংখ্য শিশু, আর অসহায় বাবা-মায়েরা ছুটছেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। এমন পরিস্থিতি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যও এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হাম আক্রান্ত শিশুদের করুণ চিত্র ও পরিবারের আর্তনাদ পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। কোথাও লাইফ সাপোর্টে শিশু, কোথাও একই পরিবারের একাধিক সন্তান আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। শিশুদের বাঁচাতে পরিবারগুলোকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি সহজেই বহু মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের অধিকাংশ জেলায় এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে এবং বহু শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো—এখনও অনেক শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং টিকা সংগ্রহে বিলম্বের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে একসময় টিকাদানে আন্তর্জাতিক সাফল্যের উদাহরণ হয়ে ওঠা বাংলাদেশ আজ হামের বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। শিশুদের জীবন রক্ষায় দ্রুত সিদ্ধান্ত, কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কারণ একটি শিশুর জীবনও অবহেলার কারণে ঝুঁকিতে পড়ুক—এটি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

