মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ গোড়াইল গ্রামে এক ব্যতিক্রমী ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক গো-খামারির বাড়িতে গর্ভধারণ ছাড়াই একটি বকনা বাছুরের দুধ দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে কৌতূহল ও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই একে ‘অলৌকিক’ বলে দাবি করছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে প্রাকৃতিক অস্বাভাবিকতা হিসেবে দেখছেন।
জানা যায়, দক্ষিণ গোড়াইল গ্রামের গো-খামারি শেখ রহমত আলী প্রায় সাত মাস আগে ফরিদপুরের টেপাখোলা গরুর হাট থেকে ৬৫ হাজার টাকায় একটি ইন্ডিয়ান ক্রস জাতের বকনা বাছুর কিনে আনেন। গাভী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে কেনা হলেও এখন পর্যন্ত বাছুরটির কোনো প্রজনন হয়নি।
তবে প্রায় পাঁচ দিন আগে হঠাৎ করেই বাছুরটির ওলান থেকে দুধ বের হতে দেখা যায়। পরে সেটি পাত্রে সংগ্রহ করা হলে প্রতিদিন সকালে প্রায় এক থেকে দেড় কেজি দুধ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন মালিক পরিবার।
এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন। অনেকেই কৌতূহলবশত বাছুরটি দেখতে আসছেন, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন রোগমুক্তির আশায় সেই দুধ পান করছেন।
বাছুরটির মালিকের স্ত্রী জাহেরা বেগম বলেন, “আমরা গাভী পালনের জন্যই বাছুরটি কিনেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন দেখি দুধ বের হচ্ছে। পরে পশু চিকিৎসক দেখালে তিনি জানান, বাছুরটি গর্ভবতী নয়। এরপর থেকেই নিয়মিত দুধ পাওয়া যাচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা বেলু বেগম জানান, শ্বাসকষ্টের সমস্যার কারণে তিনি দুধ পান করতে এসেছেন। “শুনেছি এই দুধ খেলে উপকার হয়। তাই নিয়ত করে এক কাপ দুধ খেলাম,” বলেন তিনি।
আরেক বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, “গর্ভধারণ ছাড়া দুধ আসা অস্বাভাবিক বিষয়। অনেকে এটাকে অলৌকিক মনে করছেন। প্রতিদিনই এখানে মানুষের ভিড় বাড়ছে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মুক্তার হোসেন জানান, ঘটনাটি তিনি নিজেও সরেজমিনে দেখে সত্যতা পেয়েছেন। তবে এর বৈজ্ঞানিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল ক্ষেত্রে হরমোনজনিত কারণে গর্ভধারণ ছাড়াও কোনো কোনো গবাদিপশুর দুধ উৎপন্ন হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানতে পশু চিকিৎসকদের আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
এদিকে ‘অলৌকিক’ দাবিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে যেমন বিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তেমনি সচেতন মহল বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


