শুক্রবার

১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিরামপুরে মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

🕙 প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ২:৩১ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার সুলতানা নাজনীনের বিরুদ্ধে সরকারি ফি র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, জরুরী বিভাগের দায়িত্বপালন অবস্থায় হাসপাতালে জরুরী সেবা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি র বাইরে সরকারি ফি র নামে রোগী প্রতি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় তার দায়িত্ব চলাকালীন সময়ে। অভিযোগের সত্যতা প্রমানে গত ৬ মাস দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত অফিস চলাকালীন সময়ের বাইরে যেদিনই সুলতানা নাজনীনের ডিউটি পরে, সেদিনই সরকারি ফি র কথা বলে শুরু হয় মোটা অংকের অর্থ আদায়। সরকারি নির্ধারিত সময়ে, অফিস চলাকালীন সময়ের বাইরে জরুরী সেবা নিতে আসা রোগী প্রতি সরকারি সেবার ফি ৮ টাকা নির্ধারিত থাকলেও সুলতানা নাজনীন ৫০/৬০ থেকে শুরু করে ২০০/৩০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ করেছে বেশ কয়েকজন জরুরী সেবা নিতে আসা রোগী। এছারা, মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে প্রাথমিক স্বাক্ষরের নামে সিন্ডিগেট করে বয়ড়া,হারুকান্দি,রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন এলাকার ১০০ শত টাকা অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগের তীর বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধেও। সরকারি সেবার নামে এমন টাকা লুটকারীদের ভিক্ষুকের সাথে তুলনা করেছেন অনেকেই। বিগত ২০২২ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন মহলের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছিলো এলাকাবাসী। তখন থেকেই জোরালো অভিযোগ রয়েছে, উক্ত সময়ে বয়ড়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা সহকারীসহ কয়েকজন এবং বেশ কয়েকজন মেডিকেল অফিসার অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে জরিত ছিলেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সেই সময়ে মোটা অংকের অর্থ আর স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে তারা পার পেয়ে গেলেও আবার নতুন সিন্ডিগেট করে অর্থ লোপাটে আবার সক্রিয় হচ্ছে তারা। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম আর অর্থ লোপাটের অভিযুক্তরা একই উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় এবং মামু খালুর জোরের কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে সাহস পায় না কেউ। আবার বর্তমান সময়ে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা.এ কে এম রাসেলের দক্ষতা ও যোগ্যতায় স্বাস্থ্য সেবার মান আগের চেয়ে উন্নত,অনিয়ম ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেয়ার কারণে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সন্তষ্টি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সেবার মান উন্নত আর সন্তষ্টি প্রকাশের ফাদকেই ব্যবহার করে অসাধু কয়েকজন গোপনে আবার নতুন সিন্ডিগেট করে পুরণো রুপে অনিয়ম আর অর্থ লোপাটের পায়তারা করে সরকারি সেবাকে ব্যক্তিগত সেবা ও সরকারি হাসপাতালকে ব্যক্তিগত চেম্বার বানিয়ে সাধারণ জনগণকে উস্কে দিয়ে একটা বিব্রতকর অবস্থা তৈরি করার পায়তারা আর অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের সফিকুল জানান, গত কয়েকদিন আগে একটি সাধারণ দুর্ঘটনায় আমার হাত,পা,মুখ ছিলে যায়, হাসপাতালে যাই, সামান্য ড্রেসিং করে নাজনীন আপা আমার কাছ থেকে তিনশত টাকা রাখে। তিনশত টাকা নাকি সরকারি ফি। সরকারি ফি র নামে ৩০০ টাকার এমন জঘন্য সেবা আর যেন কেউ না নেয়। এদের কারণে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এদের চাকরি থেকে অব্যহতি দেয়া দরকার, নইলে বাংলা ছবির ডায়লোগে শুনেছিলাম- বান্দরবান পাঠানো দরকার।

আন্ধারমানিক গ্রামের ফরহাদ জানান, মারামারির ঘটনায় একই দিনে আমিও সামান্য ড্রেসিং করে দুইজনে মোট ৩০০ টাকা চেয়ে নিয়েছে এই ঝিটকার আপায়।

আজ শুক্রবার দুপুরে, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিকসা থেকে পরে সামান্য দুর্ঘটনায় আহত যাত্রাপুর গ্রামের ২৮ বছর বয়সী এক নারী জানান, ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত পেয়েছি, একটা ব্যথার ইনজেকশন দিয়েছে। ৫০ টাকা চেয়েছে ওই আপা। একশত টাকা দিয়েছি, পঞ্চাশ টাকা রাখবে বলে ভাংতি নেই বলে আরও ১০ টাকা বেশি নিয়েছে। মোট ৬০ টাকা দিছি তাকে। একশত টাকা দেয়ায় ৪০ টাকা ফেরত দিছে।

হারুকান্দি ইউনিয়নের ভেলাবাদ গ্রামের বিকাশ বলেন, আমার পা কেটে গেছে, তাই আজ শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে যাই, আড়াইশত টাকা নিয়েছে আপায়। সামান্য ব্যান্ডেজ করে মানিকগঞ্জ যেতে বললো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন জানান, সুলতানা নাজনীন একটু অন্য রকমের। সরকারি সেবার নামে নিজের স্বার্থ আর প্রেগনেন্ট/ ডেলিভারি রোগীদের সাথে গোপনে সমঝোতা করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের অপকর্ম করার অভিযোগ করেছে তার কিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার সুলতানা নাজনীন বলেন, ৩০০ টাকা কবে কার কাছ থেকে নিয়েছি, এটা আমি স্বরণ করতে পারছি না। তবে ব্যান্ডেজের সরঞ্জাম বাবদ রোগীদের দিয়ে কিনে আনাই। আজ আড়াইশত টাকা নেয়ার কথা প্রথমেই অস্বীকার করলেও কিছুক্ষন পর আবার আড়াইশত টাকা দিয়ে ব্যান্ডেজ কিনে এনেছে বলে স্বীকার করেন। এছারা ৮ টাকা সরকারি ফি র পরিবর্তে ৬০ টাকা কেন নিয়েছেন মর্মে জানতে চাইলে ভাংতি ছিলোনা বলে ৬০ টাকা স্বেচ্ছায় দিয়ে গেছে রোগী বলেও অকোপটে স্বীকার করেন।

৫০ শয্যা বিশিষ্ট হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম রাসেল জানান, গত কয়েকদিনে আমার কাছে এমন অভিযোগসহ গুরুতর বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। আগামী দুই তিনদিনের মধ্যে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করে অফিসিয়ালী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুই তিনদিনের মধ্যে তাকে শোকজের পরিকল্পনা আছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ