আন্দামান সাগরে একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডয়চে ভেলের কনটেন্ট পার্টনার দ্য ডেইলি স্টার।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জরুরি সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে।
জানা গেছে, ট্রলারটি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে প্রচণ্ড বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এক যৌথ বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম জানায়, এ দুর্ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি ও টেকসই সমাধানের অভাবের একটি মর্মান্তিক প্রতিফলন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এছাড়া, মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে কঠিন জীবনযাপনের কারণে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতাও তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সংস্থাগুলো আরও জানায়, বিদেশে উন্নত জীবনের আশায় এবং পাচারকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে মানুষ এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় পা বাড়াচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে ইউএনএইচসিআর ও আইওএম বলেছে, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন।
তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কার্যকর সম্মিলিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

