মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় এক কলেজ শিক্ষার্থীকে (২০) বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্কের পর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে সৌদি প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মামলা করতে গেলে বাঁধা প্রদান ও বিচার-সালিশের নামে সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত দিপু সৌদি প্রবাসী ও মাগুরাইল গ্রামের শহর খলিফার ছেলে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শশীনাড়া গ্রামের মৃত মনছুর মল্লিকের মেয়ের সঙ্গে প্রাইভেট পড়ার সূত্রে দিপু (২৫)-এর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে দিপু বিভিন্ন সময় তাকে নিয়ে ঘুরতে বের হয় এবং সুযোগ নিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালায়। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ২৭ মার্চ রাতে দিপু ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে তার সঙ্গে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর থেকে দিপু নানা অজুহাতে তাকে এড়িয়ে চলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ এপ্রিল ওই শিক্ষার্থী বিয়ের দাবিতে দিপুর বাড়িতে গেলে দিপু উত্তেজিত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ সময় দিপুর বোন রুপা (৩৫), মা বেগম (৫০) ও বাবা শহর খলিফাসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তাকে মারধর করে। চর-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষিতে তাকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় দিপুর বোন শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। ফোনটিতে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত ছিল, যা মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী বলেন, প্রায় ৮ বছর ধরে দিপুর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। গত ৫ এপ্রিল বিয়ের দাবিতে তিনি দিপুর বাড়িতে যান। তাকে দেখে দিপু ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে।
ঘটনার কথা জানতে পেরে ভুক্তভোগীর মা স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। দিপুদের বাড়িতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসা হলেও কোনো সমাধান না দিয়ে একপর্যায়ে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা চলে যান।
এ সুযোগে দিপু তাকে জোরপূর্বক একটি রিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তবে স্থানীয়দের বাধায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পরে তিনি সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ইউপি সদস্যসহ উভয় পক্ষকে নিয়ে ওসির কক্ষে বসে বিষয়টি সমাধানের জন্য ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়, অন্যথায় মামলা করার কথা জানানো হয়। মামলা করতে গেলে থানায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়নি। পরে রাতের দিকে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তবে এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও বলেন, এখন বিয়ে ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই। সে আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। আমি তাকে নিয়েই সংসার করতে চাই।
অভিযুক্ত দিপুর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যাযনি।
ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার দিন বিষয়টি জানতে পেরে তিনি এলাকার কিছু লোকজন ও মান্নান মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে দিপুদের বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠক বসে। তিনি অভিযোগ করেন, দিপুর পরিবার বিয়ের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি আরও বলেন, পরে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হবে—এমন আশ্বাসে এলাকার কয়েকজন তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেয়, যা মেম্বার অবগত ছিলেন। তিনি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া প্রতারণার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূরুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামি গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। তবে আসামি ও তার বাবা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তিনি বলেন, উভয় পক্ষের অভিভাবকরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য কিছু সময় চেয়েছিলেন। আসামিদের গ্রেফতার করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

