পঞ্চগড়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা একটি মামলায় অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় পাঁচ আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে সম্প্রতি পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী এ রায় দেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে ৩০ বছর বয়সী এক নারী পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল এলাকার জনি ইসলাম (২৭), বিপ্লব হোসেন (২৫), মোকছেদুল ইসলাম (৩২), সাদেকুল ইসলাম (৩২) ও খয়রুল ইসলাম (৪২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে সদর থানায় মামলা করেন।
এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মুখ চেপে ধরে রাস্তার পাশে নিয়ে যান আসামিরা। এ সময় তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ওই নারী ও তার শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে মামলার তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। বাদীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা বীর্যের নমুনার সঙ্গে মামলার কোনো আসামির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়নি। বরং ওই নমুনার সঙ্গে জগদল এলাকার আইবুল হক নামে এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তদন্তে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে।
পরে সাক্ষীদের বক্তব্য, পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ প্রতিবেদনসহ মামলার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে মামলা কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার আসামিরা। তাদের দাবি, ওই নারী ও আইবুল হকের সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তাদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত মামলার সব নথি, পুলিশের প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন। বিচার-বিশ্লেষণের পর আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা ন্যায়সঙ্গত ও আইনসম্মত।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ সাজিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট।

