টানা বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বাড়ছে দুর্ভোগ

🕙 প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬ । ১১:০৭ এএম

টানা ও থেমে থেমে ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আবারও পানি প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শরণার্থীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে উখিয়ার ৮ডব্লিউ ক্যাম্প এবং টেকনাফের আলীখালী, জাদিমুড়াসহ একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। রোববারও থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এতে বহু শরণার্থী পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

ক্যাম্প-৮ডব্লিউ-এর বাসিন্দা আজিম উদ্দিন জানান, বৃষ্টি কিছুটা কমলে পানি নেমে যায়, তবে ভারী বর্ষণ শুরু হলেই আবার বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে। সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পের নিচু এলাকার সড়ক ও ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে, ফলে অনেক পরিবারের জন্য ঘরে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

একই ক্যাম্পের আরেক শরণার্থী মো. ইসমাইল বলেন, একটানা বর্ষণের কারণে ক্যাম্প-৮ডব্লিউ-এর ব্লক এ-৩২ এলাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। অনেক আশ্রয়কেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে এবং কিছু স্থানে পাহাড়ি ঢল ও কাদামাটির কারণে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে অনেক পরিবার উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার সমস্যা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলীখালী ক্যাম্পের বাসিন্দা আলী হোসেন জানান, ভারী বৃষ্টির সময় নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি জমে যায় এবং ড্রেন ও নালাগুলো পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পানি সহজে নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে বসতঘর ও চলাচলের পথ দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকে।

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান বলেন, টানা বর্ষণের কারণে নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবারের ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা কমে গেলে এসব এলাকার পানি ধীরে ধীরে নেমে যায়।

তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি টানা বৃষ্টিজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায়ও এপিবিএনের সদস্যরা কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ