টানা বর্ষণে ৬ বিভাগে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, বাড়তে পারে বন্যা পরিস্থিতি

🕙 প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬ । ১১:৩৪ এএম

দেশজুড়ে কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এসব অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

টানা বর্ষণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, যারা বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিকভাবে কাজের সন্ধানে বের হতে পারছেন না।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, অতিভারি বৃষ্টির কারণে দেশের অন্তত ১২ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি বা বিদ্যমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এ ছাড়া ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে পানির নিচে চলে যেতে পারে।

তবে কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাও রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু ও খোয়াই নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে পানি কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ