আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতি থেকে একেবারে হারিয়ে যায়নি এবং দলটি আগামী জাতীয় নির্বাচনেই অংশ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষের রাজনৈতিক স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী নয় এবং সময়ের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে।
সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আওয়ামী লীগ একেবারে বিদায় হয়ে গেছে—এমনটি আমি মনে করি না। দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়। আমার ধারণা, দলটি আগামী নির্বাচনেই অংশ নিতে পারে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব পালনকালে অন্তত তিনবার তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছিল, ওই সময়ে তার সরে দাঁড়ানো অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ‘ডিপস্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তির ভূমিকা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিশ্বের প্রায় সব বড় ঘটনার পেছনেই কোনো না কোনোভাবে ডিপস্টেট সক্রিয় থাকে। তবে তারা সাধারণত স্রোতের বিপরীতে যায় না; বরং পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করে।”
সরকারের অভ্যন্তরে ‘কিচেন কেবিনেট’ নামে প্রভাবশালী একটি গোপন বলয়ের অস্তিত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তৌহিদ হোসেন জানান, একটি বিশেষ উপলক্ষে তিনি এমন একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, প্রতি মঙ্গলবার ওই গ্রুপ নিয়মিত বৈঠক করে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত।
তিনি বলেন, “পর্দার আড়ালে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এমন একটি বলয় কাজ করছে—এমন গুঞ্জন বিভিন্ন সময়ই শুনেছি।”
ভোটের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, ওই চুক্তির সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। পুরো বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দেখভাল করেছেন।
তার ভাষ্য, “বিশেষ কোনো কারণ বা বাধ্যবাধকতা থাকায় হয়তো চুক্তিটি তখন করা হয়েছিল। তবে নিরুপায় পরিস্থিতি না থাকলে বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত হতো।”
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিতে পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেবে—এমন প্রত্যাশা তার ছিল না। তিনি বলেন, “চিঠির জবাব আসবে—এমন আশা আমি করিনি।”

