বুধবার

১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮০০ টাকার দাবিতে থামল জীবন, ২০০ টাকার জেদে ঘটল খুন।আসামীর ভয়ংকর স্বীকারোক্তি

🕙 প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ । ২:৩৪ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের বার্থা গ্রামে আলোচিত রিকশাচালক মো. জুসন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া মূল আসামী মো. জুলহাস হোসেন (২৪)। ভাড়া নিয়ে তর্কের জেরে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামী জুলহাস হোসেনকে ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনরায় পুরো ঘটনাপ্রবাহ যাচাই করে পুলিশ। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে বার্থা গ্রামের সেই নির্জন এলাকাও পরিদর্শন করেন, যেখানে রিকশাচালক জুসনকে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখানোর সময় জুলহাস প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্য পুনরায় বর্ণনা করে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬ এপ্রিল রাতে বিকাশে টাকা ভরার কথা বলে জুসনের রিকশা ভাড়া নেয় জুলহাস। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে ভাড়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জুসন ৮০০ টাকা ভাড়া দাবি করলে জুলহাস দিতে চায় মাত্র ২০০ টাকা। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে জুসন তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেয়।
তবে সেখানেই থেমে থাকেনি জুলহাস। পরে বেশি ভাড়া দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবারও জুসনকে রিকশাসহ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে বার্থা গ্রামের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ রাস্তার পাশের ঝোপে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
পরদিন ৭ এপ্রিল দুপুরে স্থানীয়রা ঝোপের নিচে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।
ঘটনার তদন্তে নেমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সকালে ঢাকার একটি এলাকা থেকে জুলহাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে সে হত্যার পুরো ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এমন নির্মম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ