মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকেরা দিশেহারা। বাজারে আলুর দাম প্রতি কেজি মাত্র ৯–১০ টাকা, যেখানে সবচেয়ে কম দামের চালের দাম ৫০ টাকা। ফলে পাঁচ কেজি আলু বিক্রি করেও এক কেজি চাল কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ছে ১৫–২০ টাকা, কিন্তু বাজারমূল্য অনেক কম হওয়ায় শুরুতেই বড় ধরনের লোকসান দেখা দিয়েছে। একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন অনেক কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ঘিওরের সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ৫০৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেছে, উত্তর ঘিওর, চরবাইলজুরী, মাইলাগী, সিংজুরী, বালিয়াখোড়া, আঙ্গারপাড়া, বড়টিয়া ও অন্যান্য এলাকায় ব্যাপক চাষ হয়েছে।
চরবাইলজুরীর কৃষক মো. রফিক বলেন, “পাঁচ কেজি আলু বিক্রি করেও এক কেজি চাল কেনা যাচ্ছে না। সার ও কীটনাশক ঋণ নিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে চাষ করেছি। যেভাবে লোকসান হয়েছিল, এবারও একই অবস্থা হলে পথে বসতে হবে।”
মাইলাগীর কৃষক শাহজাহান জানান, “গ্র্যানুলা জাতের আলু ৯ টাকা, সানসান ও এস্টেরিক ৮ টাকা, কুমারিকা ৮ টাকা, ডায়মন্ড ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করেছিলাম ভালো দাম পাব, কিন্তু দাম পড়ে হতাশ।”
উপজেলা কৃষি অফিসার তহমিনা খাতুন জানিয়েছেন, “উৎপাদিত আলু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হতো, কিন্তু এবার দাম কম থাকায় অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে লোকসানের ঝুঁকি কমানো যায়।”

