গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আইফোন মোবাইল ও টাকার লোভে সিয়াম মোল্যা (১৪) নামে এক কলেজছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই চার বন্ধুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হত্যার দুই দিন পর সোমবার (৯ মার্চ) রাত ১১টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সিয়াম মোল্যা উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের ইতালি প্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে এবং মুকসুদপুর কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত শনিবার (৭ মার্চ) থেকে সিয়াম নিখোঁজ ছিলেন। সোমবার রাতে ঝুটিগ্রামের একটি পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কচুরিপানার নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, সিয়ামের কাছে একটি আইফোন ও নগদ টাকা ছিল। সেই ফোন বিক্রি করে এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাদকের টাকা জোগাড় করার উদ্দেশ্যে তার চার বন্ধু হত্যার পরিকল্পনা করে। অভিযুক্তরা হলেন—বাঁশবাড়িয়া এলাকার ইউপি সদস্য রিপনের ছেলে সাজিদ, টুটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজ মুন্সী, ঝুটিগ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে দিদার মিয়াসহ আরও একজন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার সিয়ামকে হত্যা করে তারা মরদেহ একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় দিদার (১৪) ও পারভেজ (১৫) নামে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি দুইজনকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সিয়ামের মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা ইতালিতে থাকায় তিনি নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। একটি মোবাইল ফোন ও নেশার টাকার জন্য বন্ধুর হাতে বন্ধুর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

