রবিবার

১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্য হারিয়ে টিকে আছে পোড়ামাটির চাকি, মাগুরায় পাল পরিবারগুলোর নতুন ভরসা

🕙 প্রকাশিত : ৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নোহাটা গ্রামের পাল সম্প্রদায়ের অন্তত ২৫টি পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন এখন পোড়ামাটির চাকি। একসময় ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের নানা পণ্য তৈরি করলেও বর্তমানে সেই শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে, তবে চাকি তৈরির মাধ্যমেই টিকে আছেন তারা।

আগে এই অঞ্চলের পাল সম্প্রদায়ের মানুষ কলস, হাঁড়ি-পাতিল, মাটির ব্যাংক, ফুলদানি, শোপিস, পুতুল ও খেলনাসহ বিভিন্ন মাটির সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিশেষ করে বৈশাখ এলেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যেত। কিন্তু প্লাস্টিক, মেলামাইন ও আধুনিক ক্রোকারিজের দাপটে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। ফলে অনেকেই পৈত্রিক পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হয়েছেন।

তবে সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা গ্রামে এখনও অন্তত ২৫টি পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা এখন মূলত পোড়ামাটির চাকি তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছেন, কারণ এতে তুলনামূলক কম শ্রম ও সময় লাগে এবং কিছুটা লাভও পাওয়া যায়।

বর্তমানে বাথরুম ও বর্জ্য পানির হাউজ নির্মাণে পোড়ামাটির চাকির চাহিদা বেড়েছে। কম খরচ, টেকসই ব্যবহার ও সহজলভ্যতার কারণে এটি সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চাকি পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলাতেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নোহাটা গ্রামের উজ্জ্বল পাল, তিনাত পাল, মনিকুমার পাল, লিটন পাল, সুজিত পাল, মিনু পালসহ অনেকেই দিনভর চাকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মাটির রিং তৈরি করছেন, কেউ চুল্লিতে পোড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ পোড়ানো চাকি নামাচ্ছেন।

পলাশ পাল বলেন, আগে সহজে ও কম দামে মাটি পাওয়া যেত, কিন্তু এখন তা সংগ্রহ করা কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

এনি কুমার পাল জানান, তাদের অধিকাংশ পরিবারের নিজস্ব জমি নেই এবং এই পেশার ওপরই জীবন নির্ভরশীল। বছরে ৮-৯ মাস কাজ থাকলেও বাকি সময়ে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ করেন। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই পেশায় থাকবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নেপাল কুমার পাল বলেন, জ্বালানি কাঠ, মাটি, শ্রমিক মজুরি, পোড়ানো ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে লাভ খুবই কম। ফলে এই পেশা দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে সহায়তা ও স্বল্পসুদে ঋণ পেলে ঐতিহ্যটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে। কেউ ঋণ বা ভাতা পেতে আবেদন করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ